বাঙালিনিউজ

বাঙালিনিউজ
নিজস্ব প্রতিবেদক

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা কত দিন চলবে, তা নির্দিষ্ট করে এখনই বলতে পারছে না মেডিকেল বোর্ড। তবে বোর্ড বলছে, খালেদা জিয়া গেঁটেবাতে ভুগছেন এবং তাঁর ডায়াবেটিস ও কোমরে ব্যথাসহ বেশ কিছু রোগ অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় আছে। কিছু পরীক্ষা দেয়া হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর ওষুধ দেয়া হবে বলে জানিয়েছে মেডিকেল বোর্ড। এসব রোগ নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। তারপর তাঁর মূল চিকিৎসা শুরু হবে।

আজ ০৮ অক্টোবর ২০১৮ সোমবার দুপুরে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের চারজন সদস্য সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন। তাঁরা বিএনপি নেত্রীর স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে জানাতেই এই প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করেছিলেন।

গতকাল ০৭ অক্টোবর রোববার দিবাগত রাতে বোর্ডের একজন সদস্য অধ্যাপক সৈয়দ আতিকুল হক বোর্ডের প্রতিনিধি হিসেবে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। সৈয়দ আতিকুল হক আজ সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়ার সমস্যাটা মূলত গেঁটেবাতজনিত।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক আবদুল জলিল চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা বোর্ডের সদস্যরা পড়েছেন। বোর্ড গঠনে হাইকোর্টের নির্দেশনার কোনও ব্যত্যয় ঘটেনি বলেই তাঁদের ধারণা। আজ রাতেও মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

মেডিকেল বোর্ডের প্রধান বলেন, গত ৩০ বছর ধরে খালেদা জিয়া রিউমাটো আর্থ্রাইটিস রোগে ভুগছেন। এই রোগ কন্ট্রোলে না রাখার কারণে তার বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তার বাম হাত বেঁকে গেছে, বাম কাঁধ নড়াতে পারেন না, হাত ঝিম ঝিম করে।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার ঘাড়ে ও কোমরে ব্যথা আছে। তার বাম হিপজয়েন্টে আর্থ্রাইটিস আছে। তার দুই হাঁটু আগে থেকে রিপ্লেস করা, সেখানে কিছুদিন আগে ফুলে গিয়েছিল। ওষুধ দিয়ে তা ঠিক করা হয়েছে।

জলিল চৌধুরী আরও বলেন, উনি গত ২০ বছর ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছেন। তাকে ডায়াবেটিস কন্ট্রোলের জন্য ইনসুলিন দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি তা নেননি। তার ডায়াবেটিসের কী অবস্থা সেটি আমাদের দেখতে হবে। মাঝখানে তার সুগার কমে হাইপো-ডায়াবেটিস হয়ে গিয়েছিল। তিনি ব্লাডপ্রেসারের ওষুধ খাচ্ছেন। মাঝখানে কিছুদিন আগে তার জ্বর হয়েছিল। সেটা এখন নেই। তার শরীরের সোডিয়াম কমে গিয়েছিল। ওষুধ দিয়ে সেটা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা বোর্ডের সদস্যরা পড়েছেন। বোর্ড গঠনে হাইকোর্টের নির্দেশনার কোনও ব্যত্যয় ঘটেনি।

গত ৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার আদালতের দেয়া নির্দেশনা অনুযায়ী ০৬ অক্টোবর শনিবার বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। এরপর ওই দিন বিকেল পৌনে চারটার দিকে বিএসএমএমইউতে নেওয়া হয় খালেদা জিয়াকে।

এদিকে, বিএসএমএমইউয়ের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, ‘খালেদা জিয়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তিনি কেবিন ব্লকের ছয়তলায় অবস্থান করছেন। আমরা হাইকোর্টের একটি নির্দেশনা পেয়েছি। সেই অনুযায়ী মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে আমাদের দেখা হয়েছে ও কুশলবিনিময় হয়েছে।’

গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য ৫ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।

ইউনাইটেড বা বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে নির্দেশনা চেয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়া রিট করেন। আবেদনে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য একটি বিশেষ বোর্ড গঠন করার নির্দেশনাসহ তাঁর চিকিৎসাসেবা-সংক্রান্ত যাবতীয় নথি দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত ৫ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড পুরান ঢাকায় নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। পরে গত ৪ অক্টোবর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করতে ও চিকিৎসাসেবা শুরু করতে ৫ সদস্যের একটি বোর্ড গঠন করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডাদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। এরপর থেকে খালেদা জিয়া নাজিমুদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। ওই মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের পাঁচ মাসের মাথায় ১২ জুলাই আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়।

Print Friendly, PDF & Email