বাঙালিনিউজ
চলতি বছর ২০১৮ সালের এপ্রিলে খালেদা জিয়াকে রাজধানীর পুরানো ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বিএসএমএমইউতে নিয়ে যাওয়া হয়। ফাইল ফটো

বাঙালিনিউজ
জাতীয়ডেস্ক

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি নির্দলীয় মেডিকেল বোর্ড গঠনের আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, এই মেডিকেল বোর্ডে আওয়ামী লীগপন্থী ডাক্তারদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এবং বিএনপিপন্থীদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কোনও সদস্য থাকতে পারবেন না।

বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও রাজিক আল জলিলের দ্বৈত বেঞ্চে আজ ০৪ অক্টোবর ২০১৮ বৃহস্পতিবার বেগম খালেদা জিয়াকে দেশের বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশনা চেয়ে করা রিট নিষ্পত্তি করে এই আদেশ দেন।

আদালতের আদেশে বলা হয়, খালেদা জিয়া এই বোর্ডে তাঁর পছন্দমতো তিনজন চিকিৎসক রাখতে পারবেন। তিনি তাঁর পছন্দমত ফিজিওথেরাপিস্ট, গাইনোলজিস্ট ও টেকনিশিয়ান নিতে পারবেন। বোর্ডের অনুমতি সাপেক্ষে বিদেশ থেকেও চিকিৎসক এনে যুক্ত করা যাবে বলে আদালত মতামত দিয়েছে। তবে তাঁর চিকিৎসা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়েই হতে হবে বলে হাইকোর্ট আদেশ দিয়েছেন।

হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল জলিল চৌধুরী এবং ফিজিকাল মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বদরুন্নেসা আহমেদ বোর্ডে থাকবেন।

আর কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক হারিসুল হক, অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক আবু জাফর চৌধুরী এবং চক্ষু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তারেক রেজা আলীর বদলে নতুন তিনজনকে বোর্ডের সদস্য হিসেবে মনোনীত করে দেবে সরকার।

তবে এই তিনজনের কেউ কেন্দ্রীয় বা জেলা পর্যায়ে সরকারসমর্থক স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচীপ) বা বিএনপি সমর্থক ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) বর্তমান বা প্রাক্তন সদস্য কিংবা সমর্থক হতে পারবেন না।

খালেদা জিয়াকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি এবং ভর্তি করা মাত্র তার চিকিৎসা শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। খালেদা জিয়া যেহেতু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, তাই জেল কর্তৃপক্ষ ও বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কর্তৃপক্ষকে যথাযথ সম্মানের সঙ্গে মানসম্মত চিকিৎসা দিতে বলেছেন আদালত।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, বদরুদ্দোজা বাদল, এ কে এম এহসানুর রহমান প্রমুখ। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

এর আগে দেশের বিশেষায়িত কোনও হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন জানান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। গত ৯ সেপ্টেম্বর রিটটি দায়ের করা হয়। রিটের শুনানিতে আইনজীবীরা বলেন, পাঁচ সদস্যের চিকিৎসকদের মধ্যে তিনজনই আওয়ামী লীগপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাচিপের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। তাই তাদের কাছ থেকে খালেদা জিয়া নিরপেক্ষ চিকিৎসা পাবেন না বলে আইনজীবীরা আদালতকে অবহিত করেন। এরপর দুইদিনব্যাপী শুনানি শেষে আদালত আজ রায় ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে ৫ বছর কারাদণ্ড দেন ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান।

এরপর থেকে পুরানো ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ঘোষণার পরপরই তাকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি এখন সেখানেই কারাবন্দী আছেন। সূত্র: বিবিসি বাংলা, যুগান্তর, এনটিভি।

Print Friendly, PDF & Email