বাঙালিনিউজ
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ফাইল ফটো

বাঙালিনিউজ
নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ ০৪ আগস্ট ২০১৯ রোববার, আদালত বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য আগামী ২৭ আগস্ট নতুন দিন ধার্য করেছেন। অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় কারান্তরীণ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চলা নাইকো দুর্নীতি মামলার চার্জ শুনানি ফের পেছানো হলো।

নাইকো দুর্নীতি মামলাটি কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে নবনির্মিত দুই নম্বর ভবনে অস্থায়ীভাবে স্থাপিত ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমানের এজলাসে বিচারাধীন।

এর আগে ২৩ জুন এ মামলার চার্জ শুনানির তারিখ ছিল। কিন্তু খালেদা জিয়া হাসপাতালে ভর্তি থাকায় তাকে আদালতে হাজির করতে পারেনি কারাকর্তৃপক্ষ। চলতি বছরের ১ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সবশেষ গত ১৯ মার্চ হুইলচেয়ারে করে খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। সেদিন তার পক্ষে আইনজীবীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় শুনানির জন্য সময় বাড়ানোর আবেদন করেন। আদালত তা শেষবারের মতো মঞ্জুর করে ১ এপ্রিল দিন ধার্য করেছিলেন।

এদিকে গত ৩ মার্চ সাবেক ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলামের চার্জ শুনানি শেষ হয়। এর আগে গত ৩ জানুয়ারি নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানিতে এসে বিচারককে আদালতের বিষয়ে অসন্তোষ জানিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

জানা গেছে, নাইকো দুর্নীতি মামলাটির অভিযোগ গঠন শুনানির দিন আজ ধার্য থাকলেও, মামলার অন্যতম আসামি খালেদা জিয়া আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার আইনজীবীরা শুনানি পেছানোর আবেদন করেন। পরে বিচারক আবেদন মঞ্জুর করে শুনানির নতুন দিন ২৭ আগস্ট ধার্য করেন।
বিএনপির কারাবন্দী নেত্রী খালেদা জিয়ার আইনজীবী হান্নান ভূঁইয়া আজ গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

সূত্রে জানা যায়, কানাডীয় প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলাটি করেন।

মামলা দায়েরের পরের বছর ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।

খালেদা জিয়া ছাড়া এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামালউদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সিএম ইউসুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুন, বাগেরহাটের সাবেক সাংসদ এমএএইচ সেলিম এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

মামলার ১১ আসামির মধ্যে সাবেক সচিব শফিউর রহমান ২০১৮ সালের ৫ মে মারা যাওয়ায় বর্তমানে আসামির সংখ্যা ১০ জন। তাদের মধ্যে পলাতক রয়েছেন তিন আসামি। তারা হলেন- সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, বাপেক্সের সাবেক মহা-ব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক ও নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় যথাক্রমে ১০ ও ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন খালেদা জিয়া। গত বছর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার পর খালেদা জিয়াকে পুরানো ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে বন্দি রাখা হয়। বর্তমানে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

Print Friendly, PDF & Email