বাঙালিনিউজ
হামলায় আহত একজনকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে

বাঙালি নিউজ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে সন্ত্রাসী হামলায় ৪০ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্দ্রা আর্ডেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয় সময় আজ ১৫ মার্চ ২০১৯ শুক্রবার দুপুরে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুইটি মসজিদে বন্দুকধারীরা এই হামলা চালায়। শহরের হাগলি পার্কমুখী সড়ক ডিনস এভিনিউতে আল নুর মসজিদ এবং লিনউডের আরেকটি মসজিদে এই হামলা চালানো হয়।

এদিকে সেই হামলার ভয়াবহ দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৭ মিনিট ধরে লাইভ স্ট্রিম (সরাসরি সম্প্রচার) করেছে বন্দুকধারী। সেখানে নিজের পরিচয়ও দিয়েছে সে। জানিয়েছে, তার নাম ব্রেন্টন টারান্ট। বয়স ২৮ বছর। অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত শ্বেতাঙ্গ সে।

এরইমধ্যে বেন্ট্রন টারান্ট নামে একটি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে টুইটার কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। হামলায় ৪০ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্দ্রা আর্ডেন। এই হামলাকে সন্ত্রাসী হামলা অভিহিত করে তিনি বলেন, এই পর্যায়ে অন্য কোনও কিছুকে সন্দেহ করার মতো কিছু নেই। আর এখন আমরা কোনও কিছু ধারণা করতে চাই না।

হামলার পর পুলিশের তরফ থেকে বেশ কয়েকজন হতাহত হওয়ার কথা জানালেও সংখ্যা নিশ্চিত করেনি তারা। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্দ্রা আর্ডেন। তিনি জানান, হামলার ঘটনায় আল নুর মসজিদেই ৩০ জন নিহত ও লিনউডের মসজিদটিতে ১০ জন নিহত হয়েছে। এছাড়াও মারাত্মক আহত ২০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আর্ডেন বলেন, সহিংস হামলার জন্য নিউজিল্যান্ডকে বেছে নেওয়া হয়েছে। কারণ, এটা বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতি, গ্রহণযোগ্যতার উদাহরণ। তিনি বলেন, আমরা বর্ণবাদকে ঘৃণা করি। ক্রাইস্টচার্চের হামলাকে সন্ত্রাসী হামলা অভিহিত করে আর্ডেন বলেন, ‘আমরা বৈচিত্র্য ও সহমর্মিতা ভাগাভাগি করে নিই। আমরা সেসব শরণার্থীর সঙ্গেই আমাদের ঘর ভাগ করে নিই, যারা আমাদের মূল্যবোধ ধারণ করেন। এই হামলার মধ্য দিয়ে ওই মূল্যবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না। দুইশ’রও বেশি নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী ও ১৬০টির বেশি ভাষার অধিকারী আমরা এক গর্বিত জাতি।

এদিকে, নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের দাবি, ভয়াবহ হামলার সে দৃশ্য লাইভ স্ট্রিম করে বন্দুকধারী। পরে তা বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ফুটেজের ব্যাপারে তিনি অবগত আছেন। এ ফুটেজ সেখান থেকে সরিয়ে ফেলতে যথাসাধ্য চেষ্টা করছে পুলিশ। মাইক বুশ বলেন, ‘এটি (হামলার ফুটেজ) পাবলিক ডোমেইনে থাকা ঠিক হবে না’।

আইসিটি প্রোভাইডার স্পার্ক-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিমন মৌটার জানান, ওই ভয়াবহ ফুটেজ বিতরণের চেষ্টাকারী ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ করে দেওয়ার কাজ চলছে। তিনি বলেন, ‘ক্রাইস্টচার্চে হামলাকারীদের ছড়ানো সে বিদ্বেষমূলক ফুটেজ বিতরণের চেষ্টাকারী ওয়েবসাইট বন্ধে স্পার্ক এর নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আমাদের ধারণা, এতে আমাদের গ্রাহকদের ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাময়িক অসুবিধা হবে।’

স্পার্ক এর মুখপাত্র অ্যান্ড্রু পিরি বলেছেন, প্রযুক্তি কর্মীরা ওই ফুটেজ বিতরণকারী তিনটি প্রাথমিক সাইট শনাক্ত করেছেন। এ ধরনের সাইটগুলো বন্ধে ইন্টারনেট প্রোভাইডারাও একযোগে কাজ করছেন।

Print Friendly, PDF & Email