নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোমায় চলে ‌যেতে পারেন। ২০০৪ সালে নিপা ভাইরাস থাবা বসায় বাংলাদেশে। সেখানে ৩৩জনের মৃত্যু হয় এর প্রভাবে। হু’-এর রিপোর্ট অনুসারে, এখনও পর্যন্ত নিপার প্রভাবে ৪৭৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। যার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৫২ জনের।

বাঙালিনিউজ
স্বাস্থ্যডেস্ক

নিপা ভাইরাস, এক ‘মারণ’ ভাইরাস। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী কলকাতায় এখন থাবা দিয়েছ? বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগী নিপা ভাইরাসে সংক্রামিত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। জারি করা হয়েছে সতর্কতা।

উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে ভারতের কেরালা রাজ্যে এই ভাইরাসের থাবায় ১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। উত্তর কেরল সহ এখন প‌র্যন্ত কেরালা রাজ্যে মৃত্যুর সংখ্যা এটা। একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের খবরে এ কথা বলা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু’-এর রিপোর্ট অনুসারে কেরালার কোঝিকোড় থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে পেরম্বরা থেকেই নিপা ভাইরাস ছড়িয়েছে। ওই অঞ্চলে এই ভাইরাসে আক্রন্ত হয়ে প্রথম মারা যান একজন নার্স।

পুনের ন্যাশানাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কোঝিকোড়ে নিপা ভাইরাসের অস্তিত্ব মিলেছে। কোঝিকোড়ে মৃত ২ ব্যক্তির রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে তা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে দিল্লি থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল কেরলে পাঠিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থমন্ত্রী জে পি নাড্ডা। এরপরই সামনে আসে নিপা বৃত্তান্ত। তারপর গোটা ভারতে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক।

হু’-এর রিপোর্ট অনুসারে নিপা বা নিভ প্রধানত বাদুর জাতীয় পশুর থেকেই ছড়ায়। নিপা অপেক্ষাকৃত নতুন ভাইরাস যা অতি সহজেই বাদুর জাতীয় তৃণভোজী প্রাণীর থেকে মানুষের দেহে প্রবেশ করে। শুধুমাত্র বাদুর নয়, নিপা শূকরের বর্জ থেকেও ছড়ায়।

বাঙালিনিউজ
নিপা ভাইরাসের একটি প্রতীকী ছবি।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মানবদেহে এনসেফালাইটিসের লক্ষ্মণ দেখা যায়। প্রবল জ্বরের সঙ্গে মাথাধরা, বমিবমি ভাব, ঝিমুনি উপসর্গ দেখা যায়। সাধারণভাবে প্রথমে জ্বর এবং মাথা যন্ত্রণা ও ঝিমুনিই এই রোগের লক্ষণ। পরবর্তী পর্যায়ে জ্বর বাড়ে ও সেই সঙ্গে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেন রোগী। এরপর ধীরে ধীরে কোমাতে চলে যায় সে। আর এরপর মৃত্যু অনিবার্য।

এখনও পর্যন্ত এই রোগের চিকিৎসা বা প্রতিশেধক বাজারে আসেনি। ফলে, এর প্রকোপ সেভাবে আটকানো সম্ভব হয় না। তবে, এই নিয়ে বিস্তর গবেষণা শুরু হয়েছে বিশ্বজুড়ে। চিকিৎসকদের মতে, নিপা ভাইসারের আক্রমণে মৃত্যুর আশঙ্কা শতকরা ৭০ শতাংশ।

চিকিৎসকরার জানাচ্ছেন, বাতাসে এই ভাইরাস ছড়ানোর কোনও সম্ভাবনা নেই। নিপায় আক্রান্ত কোনও রোগীর সংস্পর্শে এলেই কেউ নিপায় আক্রান্ত হতে পারেন। আক্রান্ত ব্যক্তি ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোমায় চলে ‌যেতে পারেন।

১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়ার নিপাতে প্রথম এই ভাইরাসের প্রকোপ দেখা দেয়। সেখানে বাড়ির পোষ্য কুকুর, বেড়াল, ঘোড়া, ছাগলের দেহে এই ভাইরাসের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। ওই অঞ্চলে প্রতিটি বাড়িতেই শূকর প্রতিপালন হয়। গবেষণার পর দেখা যায়, ওই শূকরদের থেকেই নিপার প্রভাব ছড়িয়েছে পোষ্যদের দেহে। এরপর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

২০০৪ সালে নিপা ভাইরাস থাবা বসায় বাংলাদেশে। এতে ৩৩ জনের মৃত্যু হয়। হু’-এর রিপোর্ট অনুসারে, এখনও পর্যন্ত নিপার প্রভাবে ৪৭৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। যার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৫২ জনের। সূত্র: জি ২৪ঘণ্টা.কম।

Print Friendly, PDF & Email