বাঙালিনিউজ
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। ফাইল ফটো

বাঙালিনিউজ
আন্তর্জাতিকডেস্ক

কাশ্মীরে স্বাভাবিক অবস্থা ফেরাতে কেন্দ্রীয় সরকারকে সময় দিতে বলেছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত কাশ্মীর নিয়ে তাড়াহুড়ো না করার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতি এখনো যথেষ্ট স্পর্শকাতর। আজ ১৩ আগস্ট ২০১৯ মঙ্গলবার বিচারপতি অরুণ মিশ্রের নেতৃত্বে তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ এই মন্তব্য করেন। আদালত আগামী দুই সপ্তাহের জন্য এই মামলার কার্যক্রমও স্থগিত করেছেন বলে এনডিটিভি ও জি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

জম্মু-কাশ্মীরে কার্ফু, ১৪৪ ধারা, রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তি, ইন্টেরনেট-ফোন পরিষেবা বন্ধ-সহ কেন্দ্রীয় সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ দ্রুত তুলে নিতে সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন সমাজকর্মী তেহসিন পুনাওয়ালা। তবে, এই মামলার দ্রুত রায় দিতে রাজি হননি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অরুণ মিশ্রের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ। ওই বেঞ্চ জানান, “আমরাও চাই শান্তি ফিরে আসুক। কিন্তু রাতারাতি সম্ভব নয়। এখনও কেউ জানে না ওখানে কী চলছে? সরকারের উপর আস্থা রাখতে হবে। এটি স্পর্শকাতর বিষয়।”

উল্লেখ্য, জম্মু-কাশ্মীরে অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিলের আগেই সেখানে কড়া নিরাপত্তা চাদরে মুড়ে ফেলা হয়। অনুচ্ছেদ ৩৭০ বিলোপের ঘোষণা হওয়ার পরপরই স্থানীয় রাজনৈতিক ও বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের গৃহবন্দি বা আটক করা হয়। কার্ফু ও ১৪৪ ধারা জারি করা হয় অধিকাংশ জায়গায়। ইন্টারনেট, মোবাইল পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, গতকাল ১২ আগস্ট সোমবার ইদ উপলক্ষে এই কড়াকড়ি একটু শিথিল করলেও ইন্টারনেট, মোবাইল পরিষেবা এখনও চালু করা হয়নি। দিনের শেষে ফের নিরাপত্তা কড়াকড়ি করা হয়েছে। আবেদনকারীদের অভিযোগ, জম্মু-কাশ্মীরের মানুষের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই তাদের আত্মীয়দের। এমনকী নিরাপত্তারক্ষীরাও তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।

ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ ১৩ আগস্ট মঙ্গলবার ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি অরুণ মিশ্রের নেতৃত্বে তিন বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছেন, ‘প্রাণের মূল্যে জোর করে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরানোর চেষ্টা করা যাবে না। আমরা সবাই চাই কাশ্মীরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হোক। কিন্তু রাতারাতি কিছু হওয়া সম্ভব নয়। এ বিষয়ে সরকারকে সময় দিতে হবে।’

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৪ আগস্ট রোববার জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা খারিজ করে দেয় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। রাজ্যসভায় দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা রদ করা হবে। জম্মু ও কাশ্মীর আর রাজ্য নয়। অমিত শাহর ঘোষণার ফলে রাজ্যের মর্যাদা হারিয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর। অমিত শাহ জম্মু ও কাশ্মীরকে পুনর্গঠনেরও ঘোষণা দেন। জম্মু ও কাশ্মীরকে পুনর্গঠিত করে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করা হয়েছে। তার একটি জম্মু-কাশ্মীর, অন্যটি লাদাখ। ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা জম্মু ও কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছিল।

জম্মু-কাশ্মীরে বিশেষ মর্যাদা খারিজের ঘোষণার দিন থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করে ওই অঞ্চলে। কাশ্মীরে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

আজ ভারত সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে ভেনুগোপাল সর্বোচ্চ আদালতকে বলেন, ‘কাশ্মীরের প্রতিটি দিন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এই অবস্থা ঠিক হয়ে যাবে বলে আমরা আশা করছি।’ তিনি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই সরকার নিয়ন্ত্রণ তুলে নেবে। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, কাশ্মীরে ২০১৬ সালের জুলাই মাসেও এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। সে সময় মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিল। তখন ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ৪০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। কিন্তু এবার একজন মানুষেরও মৃত্যু হয়নি।

এই কয়েক দিনের মধ্যে কাশ্মীরে যে একটিও প্রাণহানি হয়নি, সে কথা সুপ্রিম কোর্টও বলেছেন। এরপর সুপ্রিম কোর্ট জানায়, “সত্যিকারের ছবিটাও আমাদের জানা উচিত। তবে, সময় দিতে হবে। স্বাভাবিক হওয়ার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে, ফের আদালতে এসে জানাতে পারে।” দু’সপ্তাহের জন্য এই আবেদন মুলতুবি করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট।

Print Friendly, PDF & Email