বাঙালিনিউজ

বাঙালিনিউজ
নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ শুক্রবার, কারাবাসের এক বছর পূর্ণ হলো বেগম খালেদা জিয়ার। গত বছর ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি, বহুল আলোচিত আদালত তাঁকে দোষী সাবস্ত করে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন। ওই দিন থেকেই তিনি পুরানো ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের সাবেক কেন্দ্রীয় ে বন্দি আছেন।

পরে এই মামলায় আপিলে হাইকোর্ট তাঁর সাজার মেয়াদ আরো ৫ বছর বাড়িয়ে ১০ বছর করেছেন। আর জিয়া চেরিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তাঁর ৭ বছর কারাদণ্ড হয়েছে। ফলে মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরানো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

দীর্ঘ প্রায় একযুগ ধরে চলার পর জিয়া অর্ফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজা হয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার। এ নিয়ে আইনি লড়াই চলছে। কারাগারে নেওয়ার আগে বিএনপির সিনিয়র কিছু নেতা এবং খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেছিলেন, সর্বোচ্চ দু-তিন দিনের মধ্যেই বেগম জিয়াকে কারামুক্ত করা হবে। আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি রাজপথে আন্দোলনের বার্তা দিয়েছিলেন তারা। কিন্তু দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার বন্দি জীবনের আজ এক বছর পূর্ণ হলো। দলনেত্রীকে মুক্ত করতে পারেননি বিএনপির নেতারা, আন্দোলন কিংবা আইনি লড়াইয়ে।

এরই মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপির নেতারা বলেছিলেন, দলনেত্রীর মুক্তি আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে যাচ্ছেন তারা। কিন্তু নির্বাচনে চরম ভরাডুবি হয়েছে তাদের। খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করে একাদশ জাতীয় সংসদে নেওয়ার স্বপ্নও ভেঙে গেছে বিএনপির।

তাহলে এখন খালেদা জিয়ার মুক্তির উপায় কি? আইনি প্রক্রিয়ায় কি খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব? নাকি আন্দোলনের মাধ্যমে তাঁর মুক্তির পথ খুঁজতে হবে? কি বলেন বিএনপি নেতারা?

বাঙালিনিউজ

এসব প্রশ্নের জবাবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার একমাত্র উপায় রাজপথ উত্তপ্ত করা। যতদিন পর্যন্ত রাজপথ উত্তপ্ত না হবে, ততদিন তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় জেল থেকে বের করা যাবে না। এটি আমার দৃঢ় বিশ্বাস। তাই আমরা যতই আইনি প্রক্রিয়ার কথা বলি না কেন, সরকারের সদিচ্ছা ছাড়া তাকে মুক্ত করা যাবে না।’

বেগম জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এবং রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে তাকে সরিয়ে ফেলার উদ্দেশ্যে এই মামলাগুলো তার বিরুদ্ধে করা হয়েছে। সঠিক বিচার হলে এই দীর্ঘ সময় যাবত তার কারাগারে থাকার কোনো প্রশ্নই আসত না।

আর বিএনপির যুগ্মমহাসচিব ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘সরকার প্রভাব বিস্তার না করলে খালেদা জিয়া অনেক আগেই কারামুক্তি পেয়ে যেতেন। সরকার ইচ্ছা করলেই যে কোনো সময় খালেদা জিয়ার কারামুক্তি সম্ভব। তাঁর কারামুক্তি সরকারের ওপর নির্ভর করছে। তবে সরকার বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ করছে।’

কিন্তু সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেছেন, বিএনপি’র আইনজীবীদের অভিযোগ একেবারেই অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন। দীর্ঘসময় বিচার বিশ্লেষণের পরই আদালত রায় দিয়েছেন। আর দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম বলেছেন, এই মামলার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া দুদকের করা। কাজেই এই ধরণের মন্তব্য হাস্যকর।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ আজ ০৮ ফেব্রুয়ারি এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, যেহেতু আদালতের মাধ্যমে সম্ভব নয়, তাই আন্দোলন ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয়।

বাঙালিনিউজ

জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে মোট ৩৬টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে সাজা হয়েছে দু’টিতে। সাজা হওয়া দু’টি মামলার একটি হচ্ছে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা। এই মামলায় বিচারিক আদালত ৫ বছর কারাদণ্ড দেওয়ার পর, হাইকোর্টে সেই সাজা বেড়ে ১০ বছর হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে আপিল বিভাগে বিচারাধীন। আর সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে নিম্ন আদালতের ৭ বছর কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন তাঁর আইনজীবীরা।

বাকি ৩৪টি মামলার মধ্যে গ্যাটকো, নাইকো ও বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতিসহ ১১টি মামলা বিচারাধীন। আর হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত রয়েছে ২৩টি মামলা। তবে খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে আইনি লড়াইয়ের ব্যাপারেও মতোবিরোধ আছে আইনজীবীদের। শোনা যায়, এ কারণে আইনজীবী নেতাদের ওপর বিরক্ত বিএনপির হাইকমান্ড। তাদের কারও কারও ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ বলেও বিভিন্ন সময় অভিযোগ করেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা।

আইনজীবী নেতাদের ভুলের কারণেই বেগম জিয়াকে কারাগারে যেতে হয়েছে বলে দাবি করেন বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা। তাদের অভিযোগ, শুধু কারাগারই নয়- বিএনপির প্রধানকে সেনানিবাসের বাড়িও ছাড়তে হয়েছে কিছু আইনজীবীর ভুলের কারণে। বাড়ির বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে না গিয়ে নিম্ন আদালতে গেলে, দীর্ঘ সময় পার করা যেত বলেও মনে করেন ওই নেতারা।

খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে বিএনপির যুগ্মমহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘বেগম জিয়াকে যখন কারাগারে নেওয়া হয়, তৎক্ষণাৎ আমরা রাজপথের শক্ত কর্মসূচি দিয়েছিলাম। কিন্তু ওই সময় কেন্দ্র থেকে তৃণমূল-সর্বস্তরের নেতা-কর্মীর ওপর মামলা-হামলার খড়্গ নেমে আসে। এখন আমরা সেসব মামলা নিয়েই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছি। তারপরও আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি বিএনপির কর্মসূচি চলছে। মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের কাছে আমরা দুঃখিত, আমরা আমাদের প্রিয় নেত্রীকে কারামুক্ত করতে পারিনি। তবে বেগম জিয়ার মুক্তির কোনো বিকল্প নেই। যে কোনো মূল্যে বিএনপি চেয়ারপারসনকে মুক্ত করতে হবে। এ নিয়ে কোনো আপস নেই।’

Print Friendly, PDF & Email

Related posts