বাঙালিনিউজ
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ফাইল ফটো

বাঙালিনিউজ
জাতীয় ডেস্ক

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের আপাতত কিডনি ডায়ালাইসিস লাগবে না। সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই নেতার স্ত্রী বেগম ইসরাতুন্নেসা কাদেরকে চিকিৎসকরা এ কথা জানিয়েছেন বলে গতকাল ০৫ মার্চ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ কথা জানা গেছে।

জানা গেছে, ের কিডনিতে ‘ক্রিয়েটিনিনের’ মাত্রা বেড়েছে। তবে কিডনিতে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বৃদ্ধি এবং রক্তে ইনফেকশনের উপস্থিতি পাওয়া গেলেও তার শারীরিক অবস্থা উত্তরোত্তর উন্নতির দিকে যাচ্ছে। তিনি হাসপাতালটির আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাকে সেখানে ভেন্টিলেশনে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

বেগম ইসরাতুন্নেসা কাদের বলেন, তার (ওবায়দুল কাদের) অবস্থা স্থিতিশীল আছে। ধাপে ধাপে উন্নতি হচ্ছে। তার কিডনিতে কিছু জটিলতা এবং রক্তে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তবে আপাতত ডায়ালাইসিস লাগবে না। ৪-৫ দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যাবে বলে আশা করছেন ডাক্তাররা। এটা ঠিক হয়ে গেলে চিকিৎসকরা তার হার্টের বাইপাস সার্জারি করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

ওবায়দুল কাদেরের দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তার স্ত্রী ইসরাতুন্নেসা কাদের।

এর আগে, ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসার হালনাগাদ বিষয়াদি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালে ব্রিফ করে ডা. ফিলিপ কোহের নেতৃত্বাধীন মেডিকেল বোর্ড। ডা. ফিলিপের বক্তব্যের আলোকে এলিজাবেথ হাসপাতালে ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসার আপডেট জানান বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ডা. আবু নাসার রিজভী।

তিনি বলেন, কিডনিতে কিছুটা সমস্যা রয়েছে। এই ইনফেকশন ওভারকাম করলেই বাইপাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এছাড়া ওবায়দুল কাদেরের অবস্থা ক্রমেই উন্নতির দিকে যাচ্ছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অধ্যাপক রিজভীর প্রেস ব্রিফিংয়ের একটি ভিডিও ক্লিপিংও মিডিয়ার কাছে পাঠানো হয়।

ব্রিফিংয়ে অধ্যাপক ডা. আবু নাসার রিজভী বলেন, ‘সোমবার রাত ১১টায় ওবায়দুল কাদেরকে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে তার চিকিৎসায় জরুরি ভিত্তিতে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফিলিপ কোহর নেতৃত্বে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন- কার্ডিও থোরাসিক বিশেষজ্ঞ ডা. সিভাস্তেল কুমার স্বামী, ইনফেকশন বিশেষজ্ঞ ডা. অশোক কুমার, কিডনি বিশেষজ্ঞ ডা. হো সি কো এবং আইসিইউ বিশেষজ্ঞ শোং কি মিন।

প্রসঙ্গত, গত ০৩ মার্চ রবিবার সকালে শ্বাসকষ্ট নিয়ে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে ভর্তি হন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। পরে এনজিওগ্রামে তার হৃদপিণ্ডের রক্তনালীতে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। এর মধ্যে একটি ব্লক স্টেন্টিংয়ের মাধ্যমে অপসারণ করেন চিকিৎসকরা।

অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলে পরদিন ০৪ মার্চ সোমবার বিকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার আম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। বাংলাদেশ সময় রাত ৮টার দিকে তাকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি সিঙ্গাপুর পৌঁছায় এবং তারপর মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত ১১টায় মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে তার চিকিৎসা শুরু হয়। সেখানে তিনি ডা. ফিলিপ কোহের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

Print Friendly, PDF & Email

Related posts