বাঙালিনিউজ
আজ ৭ মার্চ ২০১৯ বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে, রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে এই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাঙালিনিউজ
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে, স্বাধীন-সার্বভৌম বাঙালি জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশের জনক ের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আজ ৭ মার্চ ২০১৯ বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে, রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে এই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন । এরপর প্রধানমন্ত্রী সেখানে কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

এরপর বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, মহিলা লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুব মহিলা লীগ ও কৃষক লীগসহ আওয়ামী লীগের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

উল্লেখ্য, ৭ মার্চ উপলক্ষে আজ বিকেল ৩টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের সব শাখা কমিটি কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করে পালন করছে।

এর আগে আজ ভোর ৬টা ৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

হাজার বছরের পরাধীনতা থেকে বাঙালির মুক্তি ও স্বাধীনতার জন্য সুদীর্ঘকালের আপসহীন আন্দোলন-সংগ্রামের চূড়ান্ত পর্যায়ে, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তদানীন্তন রেসকোর্স ময়দান) ঐতিহাসিক জনসভায় বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ডাক দেন।

ওই দিন লাখ লাখ মুক্তিকামী মানুষের উপস্থিতিতে এই মহান নেতা বজ্রকণ্ঠে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তাঁর কালোত্তীর্ণ ভাষণে বলেন, ‘রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ।’ এরপর স্বাধীনতাকামী বাঙালির উদ্দেশ্যে তিনি স্বাধীনতার বীজমন্ত্র ঘোষণা করেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

বঙ্গবন্ধুর এই ঐতিহাসিক ভাষণের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সাড়ে ৭ কোটি মুক্তিকামী বাঙালির স্বপ্ন ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের এই ভাষণকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের অমূল্য প্রামাণ্য দলিল হিসেবে সংরক্ষণে তাদের ওয়ার্ল্ড মেমোরি রেজিস্টারে অন্তর্ভূক্ত করে স্বীকৃতি দিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণেই স্বাধীনতার ঘোষণা পরিলক্ষিত হয়।

বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা-সংগ্রামের গ্রিন সিগন্যাল পেয়ে অসহযোগ আন্দোলনে উত্তাল জনতা মুক্তির মন্ত্রে দীক্ষিত হয়। ফলে পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যান সংগ্রামী জনতা। বাঙালির মুক্তি-আন্দোলন স্তব্ধ করতে এক পর্যায়ে, ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র-নিরীহ জনতার ওপর ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যাযজ্ঞ শুরু করলে, ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার চূড়ান্ত ঘোষণা দেন।

বাঙালি বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা, নির্দেশনা, প্রেরণা ও মন্ত্রণায় অনুপ্রাণিত হয়ে-মুক্তির চেতনায় টানা ৯ মাস সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে ৩০ লাখ শহীদের রক্ত ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে, হাজার বছরের স্বপ্ন-সংগ্রাম ও সাধনার স্বাধীন-সার্বভৌম জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে।

Print Friendly, PDF & Email

Related posts