বাঙালিনিউজ
ফাইল ফটো।

বাঙালিনিউজ
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেছেন, দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মৃত্যুশয্যায়। আমরা তাঁকে যে চিকিৎসার জন্য বাইরে নিয়ে যাব, সেই অবস্থাও তাঁর নেই। তাছাড়া এরশাদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান আমরা এখনো করতে পারিনি।

গতকাল ২৭ জুন ২০১৯ বৃহস্পতিবার বিকেলে সংসদ ভবনে একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে দলের চেয়ারম্যানের শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি নিজেদের অক্ষমতার কথা বলেন সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ রাঙ্গাঁ।

বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, “অসুস্থ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সিএমএইচে আছেন। এরশাদ সাহেব আজ মৃত্যুশয্যায় আছেন। উনার চিকিৎসার জন্য যে টাকার প্রয়োজন, সেই সংস্থান আমরা এখন পর্যন্ত করতে পারিনি।”

গত বছর ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকে অসুস্থ ৯০ বছর বয়সী এরশাদ। রক্তে হিমোগ্লোবিনের স্বপ্লতার সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। লিভারসহ আরো শারীরিক জটিলতাও রয়েছে তাঁর।

নির্বাচনের আগে সিঙ্গাপুরে গিয়ে চিকিৎসা করিয়ে আসার পর থেকে বাসায়ই থাকছিলেন এরশাদ। দলীয় কর্মসূচিতেও যাচ্ছিলেন না।

গত ২৬ জুন বুধবার এরশাদ অসুস্থ হয়ে পড়লে, তাঁকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে গতকাল ২৭ জুন বৃহস্পতিবার সকালে জানিয়েছিলেন তাঁর ভাই ও জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

এরশাদকে বিদেশে নেওয়ার অবস্থাও নেই বলে সংসদে গতকাল সংসদে জানান জাতীয় পার্টির মহাসচিব রাঙ্গাঁ। তিনি বলেন, “আমরা উনাকে দেশের বাইরে নিয়ে যাব, সেই অবস্থাটাও উনার নেই। যদি বাইরে নেওয়ার মতো অবস্থা হয়, তাহলে আমরা তার উদ্যোগ নেব। আমরা আশা করি, তিনি সুস্থ হয়ে আবার সংসদে বসবেন।”

এরশাদকে নিয়ে কটাক্ষ করায় বিএনপির সমালোচনাও করেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব।
তিনি বলেন, “অসুস্থ এরশাদ সাহেব সিএমএইচে, যমে-মানুষে টানাটানির অবস্থা বলতে পারেন, বিএনপি তাকে নিয়ে কটাক্ষ করছে ‘এই বৃদ্ধ-এই বুড়ো আর কতদিন বাঁচবে’।


জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা

রাঙ্গা বলেন, “যে মানুষটি নয় বছর দেশ শাসন করেছে। মানুষের জন্য এক বুক পানিতে নেমে যিনি ত্রাণ বিতরণ করেছেন। তার সম্পর্কে এই অশালীন ব্যবহার করে, অসৌজন্যমূলক আচরণ করে।”

তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী বিরোধী দলের সদস্যদের সংসদে বক্তব্য রাখতে হলে বিরোধী দলের প্রধান হুইপের কাছ থেকে সময় নিতে হয়। বিএনপির এমপিরা এসে আমার কাছ থেকে সময় নিচ্ছে আবার আমাদের বিরুদ্ধে আজে বাজে উক্তি করছে। আমি তাদের সময় দিচ্ছি, আর তারা নানা জায়গায় আমাদের পার্টির চেয়ারম্যানকে নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করছে। এই ধরনের অশ্লীল ভাষা একমাত্র বিএনপি’র নেতাকর্মীরাই বলতে পারে।

বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, সেই তো নথ খসালি তবে কেন লোক হাসালি। বিএনপি’র শাসন আমালে আমার ছেলেকে অপহরণ করা হয়। তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাকে বলেছিলেন পিনুর সঙ্গে কথা বলতে। পিনু হচ্ছে তারেক রহমানের আরেক নাম। আমি আগে কখনো হাওয়া ভবনে যাইনি, কারণ সেখানে গেলেই একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি করত। যেহেতু তাদের সঙ্গে তখন আমাদের একটা সমঝোতা হওয়ার কথা ছিল।

জাতীয় পার্টি বিরোধী দল নয় আমরাই বিরোধী দল, বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদের এমন বক্তব্যের জবাবে বিরোধী দলীয় প্রধান হুইপ রাঙ্গা বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে আমাদের দলের চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ বলতেন আমরা সরকারের সঙ্গে থাকব। যেহেতু আমরা এক সঙ্গে নির্বাচন করেছি, কাজেই আমরা সরকারের থাকতে পারতাম। কিন্তু যেহেতু সংসদে বিরোধী দলের প্রয়োজন সেকারনেই আমরা বিরোধী দলের একটা অবস্থানে রয়েছি। সেই বিরোধী দলেও বিএনপি’র ৫ জন রয়েছে।

কারাগারে এরশাদের নির্যাতনের সেই দিনের বর্ণনা করে রাঙ্গা বলেন, আমার নেতাকে যেখানে রাখা হয়েছিল সেখানে বাথরুম পর্যন্ত সিটি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। বলা হয়েছিল সে লাফ দিয়ে বের হয়ে যেতে পারেন। অথচ তখনকার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া নিজেও জানতেন না একদিন তাকেও জেলে যেতে হবে।

এসময় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে বলেন, এরশাদ সাহেবের সময় যেহেতু কোন লোককে দেখতে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় নাই, এখন ওনার (খালেদা জিয়ার) সঙ্গে যে মহিলাকে দেওয়া হয়েছে তাকে প্রত্যাহার করে নেওয়া উচিত। তার বাথরুমে সিটি ক্যামেরা বসানো উচিত, উনিও বের হয়ে যেতে পারেন।

Print Friendly, PDF & Email