বাঙালিনিউজ
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। ফাইল ফটো, এএফপি

বাঙালিনিউজ
নিজস্ব প্রতিবেদক

চিকিৎসকেরা বলছেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁর শরীরের কোনো অঙ্গ ঠিকমতো কাজ করছে না। অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কাজ কৃত্রিমভাবে চালানো হচ্ছে।

আজ ১২ জুলাই ২০১৯ শুক্রবার দুপুরে, জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম কাদের দলের চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে এইচ এম এরশাদের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আজ সকালেই তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে দলীয় চেয়ারম্যানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেছেন। সেখান থেকে তিনি এসব তথ্য জেনেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে এরশাদের ছোট ভাই জি এম কাদের বলেন, এরশাদের রক্তে যে সংক্রমণ ছিল, তা কমে গেছে। তবে চিকিৎসকেরা বলছেন, তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। কাদের বলেন, এরশাদের খাবার হজম হচ্ছে না। লিভার পুরোপুরি কাজ করছে না। শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাঁকে বিদেশ নেওয়া সম্ভব না। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালেই বিশ্বমানের চিকিৎসা হচ্ছে।

বেশকিছু দিন থেকে অসুস্থ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন আছেন তিনি। রক্তে হিমোগ্লোবিন না থাকা, ফুসফুসে সংক্রমণ ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ।

মাঝপথে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও এই মুহূর্তে তিনি ভালো নেই। অস্তিমজ্জা পর্যাপ্ত হিমোগ্লোবিন উৎপাদনে কাজ না করায় তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। আগের অবস্থা থেকে আরও শঙ্কার দিকে যাচ্ছে এরশাদের শারীরিক অবস্থা। ফলে শঙ্কামুক্ত নন পল্লীবন্ধু নাম খ্যাত সাবেক রাষ্ট্রপতি এ এইচ এম এরশাদ।

আজ শুক্রবার গণমাধ্যমকে এরশাদের ছোটভাই ও জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের জানান, ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে তার রক্তের বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। লিভার এখনো কাজ করছে না। প্রয়োজনমত তাঁর রক্তে বিভিন্ন উপাদান দেওয়া হচ্ছে।

জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, সবসময় চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। তাকে এখানে যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, বিদেশেও একই চিকিৎসা দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

গত ২২ জুন ৯০ বছর বয়সী সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদকে অসুস্থ অবস্থায় সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। কখনো উন্নতি আবার কখনো অবনতির ফলে দেশেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে তাকে।

আজকের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়, সাইফুদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

Print Friendly, PDF & Email