বাঙালিনিউজ
আজ ১৪ জানুয়ারি ২০১৯ সোমবার দুপুরে, সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

বাঙালিনিউজ
সিলেট প্রতিনিধি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এজেন্ডা জানলে সংলাপে যাওয়ার বিষয়টি তাঁরা বিবেচনা করবেন। তবে তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আবার সংলাপে অবশ্যই ‘নির্বাচন বাতিলের’ বিষয়টি এজেন্ডা হিসেবে থাকতে হবে।

আজ ১৪ জানুয়ারি ২০১৯ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)–এর মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা বলেন।

গত ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ রোববার ভোটের দিন সহিংসতায় নিহত এক ছাত্রদল নেতার পরিবারকে সহমর্মিতা জানাতে মির্জা ফখরুল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা সিলেটে এসেছেন। সকাল সাড়ে ১১টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান মির্জা ফখরুল, জেএসডির আ স ম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কাদের সিদ্দিকী, গণফোরামের মোস্তফা মহসিন মন্টু ও সুব্রত চৌধুরী।

সিলেট পৌঁছে হজরত শাহজালাল (রহ.)–এর মাজার জিয়ারত মাজার জিয়ারত করেন তারা। মাজার জিয়ারতের পর সাংবাদিকরা সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নতুন সংলাপের বিষয়ে জানতে চান।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল ১৩ জানুয়ারি রোববার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে যেসব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ হয়েছিল, তাদের আমন্ত্রণ জানাবেন প্রধানমন্ত্রী। ৩০ ডিসেম্বরের ওই নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ।

আজ সিলেটে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে ফের প্রধানমন্ত্রীর সংলাপের বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন। জবাবে তিনি বলেন, ‘সংলাপের এজেন্ডা তো আমরা জানি না। নিঃসন্দেহে যখন আমাদের এজেন্ডা জানাবেন, তখন আমরা সে বিষয়ে বিবেচনা করব।’

একইসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘সংলাপ যদি গতবারের মতো হয়, তাহলে সেটি অর্থবহ হবে না। সংলাপের আহ্বান করা হলে আমাদের এজেন্ডা একটি—এই নির্বাচন (একাদশ জাতীয় সংসদ) বাতিল করতে হবে। পুনরায় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে জনগণের অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে কলঙ্কিত অধ্যায়। দখলদার সরকার জনগণের অধিকার হরণ করে নিয়ে গেছে। সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। জনগণের রায়কে তারা ডাকাতের মতো ডাকাতি করে নিয়ে গেছে।’

উপজেলা নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট কিংবা বিএনপি অংশ নেবে কি না? এই প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো সরকারের পরিবর্তন ঘটায় না। সুতরাং এ নির্বাচনগুলো মুখ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় না। এখন যে নির্বাচন কমিশন আছে, যার অধীনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হলো; সারা বিশ্বের সবাই দেখেছে কতটা অযোগ্য এই নির্বাচন কমিশন। তাদের কোনো যোগ্যতাই নেই সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করার। সুতরাং তাদের অধীনে নির্বাচন করার কোনো প্রশ্নই নেই।’

জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জামায়াতের সঙ্গে জোট নিয়ে আলোচনা করবে বিএনপি। আমরা নিজেদের মধ্যে এ নিয়ে এখনও কোনো আলাপ-আলোচনা করিনি। তবে আমাদের দলের পক্ষ থেকে আমরা এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব।

জামায়াতকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে করা এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, জামায়াত নিয়ে ড. কামাল হোসেনের বক্তব্য গণফোরামের দলীয় বক্তব্য। এটি ঐক্যফ্রন্টের বক্তব্য নয়। এ বক্তব্য সামগ্রিকভাবে ওনার দলের।

ফখরুল আরও বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অটুট আছে, ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে কোনো প্রকার সমস্যা নেই। রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পরের কিছুটা অমিল থাকতে পারে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের ঐক্য অটুট।

উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ রোববার অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বিশাল বিজয় অর্জন করেছে মহাজোট। ২৯৯টি আসনে গৃহীত ভোটের ফলাফলে ২৮৮টি আসনে জয়লাভ করেছে মহাজোট। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে। আওয়ামী লীগ জিতেছে ২৫৭টি আসন। এই জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টি পেয়েছে ২২টি আসন, ওয়ার্কার্স পার্টি ৩টি, জাসদ ২টি, বিকল্পধারা ২টি জেপি ১টি ও তরিকত ফেডারেশন ১টি আসন পেয়েছে।

অন্যদিকে, মহাজোটের প্রধান প্রতিপক্ষ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে ৮টি আসন পেয়েছে। এর মধ্যে ঐক্যফ্রন্টের মূল দল বিএনপি ৬টি এবং শরিক গণফোরাম ২টি আসন পেয়েছে। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী ৩ জন বিজয়ী হয়েছেন।

ঐক্যফ্রন্টের ৮ জন বিজয়ী ছাড়া, সব নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শপথ নিয়েছেন। বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর তা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তাদের বিজয়ী প্রার্থীরাও এখনো শপথ নেননি। বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্ট নতুন নির্বাচন দাবি করেছে।

এ সময় মির্জা ফখরুলের সঙ্গে ছিলেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, গণফোরামের নেতা সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ ও মহানগর বিএনপি সভাপতি নাসিম হোসাইনসহ সিলেট বিএনপি ও অঙ্গ–সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

পরে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা শাহ পরাণ (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করে বালাগঞ্জে যান। সেখানে ভোটের দিন সহিংসতায় নিহত ছাত্রদল নেতা সায়েম আহমদ সুহেলের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারকে সহমর্মিতা জানান। এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, এই জালিম সরকারের হাত থেকে কেউ রক্ষা পাচ্ছে না। এদের কাছে সোহেল হত্যার বিচার চেয়ে লাভ নেই। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সোহেলসহ সব হত্যা ও নির্যাতনের বিচার করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email