বাঙালিনিউজ
বেতার ও টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষন দেন সিইসি কে এম নুরুল হুদা। ছবি: পিআইডি

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাঙালিনিউজ

আগামী ২৩ ডিসম্বের ২০১৮ রোববার, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা আজ ০৮ নভেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ভোটের এই জানিয়ে দিয়েছেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৯ নভেম্বর, বাছাইয়ের তারিখ ২২ নভেম্বর এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ নভেম্বর। তার ২৩ দিন পর ২৩ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১২৩ দফা (৩) উপদফা (ক)-এর বরাতে এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এই সময়সূচি ঘোষণা করেছেন সিইসি কে এম নুরুল হুদা। সিইসি তাঁর ভাষণে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তার বিষয়টিও তুলে ধরেন।

সারাদেশে ৩০০টি আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচনে এবার ভোট দেবেন ১০ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৪৮০ ভোটার।

তফসিল ঘোষণার ভাষণে আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করে নিজেদের মতানৈক্য আলোচনার মাধ্যমে অবসান ঘটানোর জন্য দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সিইসি।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গত সোমবার ইসির সঙ্গে বৈঠক করে তফসিল পেছানোর দাবি করেছিল। কারণ হিসেবে তারা বলেছে, সরকারের সঙ্গে সংলাপ চলছে। এর ফলাফল দেখে তফসিল ঘোষণা করা যেতে পারে। ঐক্যফ্রন্ট বলেছে, সমঝোতার আগে তফসিল ঘোষণা করা হলে তারা নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা করবে।

তবে জাতীয় পার্টি ও যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের তফসিল না পেছানোর জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। গতকাল ০৭ নভেম্বর বুধবার জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে আজ ০৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার অনুরোধ করে। যুক্তফ্রন্টের নেতা ও বিকল্পধারার মহাসচিব আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল গত মঙ্গলবার ইসিকে চিঠি দেয়।

নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতানৈক্যের মধ্যেই আজ ০৮ নভেম্বর বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণে তফসিল ঘোষণা করেন সিইসি।

সিইসি বলেছেন, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে তফসিল ঘোষণা পেছানোর উপায় ছিল না। তবে সিইসি নূরুল হুদা ইতোপূর্বে বলেছিলেন, সব দল চাইলে সংবিধান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে থেকে কমিশন ভোটগ্রহণের সময়সূচি কয়েকদিন পেছানোর কথা ভাবতে পারে।

তফসিল ঘোষণার ঠিক আগে মতবিভেদ কাটাতে দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরে সংলাপ হলেও তাতে এখনও কোনো সমঝোতা হয়নি।

বিএনপিকে নিয়ে গঠিত কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গতকাল ০৭ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে, সংসদ ভেঙে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চেয়েছে। নির্বাচনও পেছাতে বলেছে তারা। কিন্তু কোনোভাবেই সংবিধানের বাইরে যেতে রাজি নয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোট।

দুই দফা সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর ফের আলোচনার আশা রেখে তফসিল পেছানোর আহ্বান জানিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। কিন্তু ক্ষমতাসীন জোট, বর্তমান সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি এবং যুক্তফ্রন্ট সহ ইসলামপন্থী কিছু দলের সমর্থন পাওয়ার পর তফসিল ঘোষণা করল ইসি।

তফসিল ঘোষণা করে বিরোধী শিবিরকে আশ্বস্ত করে সিইসি বলেছেন, নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে ইসি সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েনের দাবি জানালেও সিইসি বলেছেন, আগের মতোই বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় সেনাবাহিনী স্টাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবে।

বহুল আলোচিত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) পক্ষে অভিমত ব্যক্ত করে তিনি বলেন, শহরাঞ্চলে কিছু সংখ্যক কেন্দ্রে যন্ত্রে ভোটগ্রহণ হবে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ইভিএমের পক্ষে অবস্থান জানালেও এই যন্ত্র ব্যবহারের বিরোধিতা করছে বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। প্রশ্ন ওঠায় ইভিএম ব্যবহার এবার না করার পক্ষে মত জানিয়েছে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর অধিকাংশ।

প্রধানমন্ত্রীর সংলাপ চলার মধ্যে গত কয়েকদিনে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নিজেদের বৈঠকের প্রেক্ষাপটে সিইসি বলেছেন, সার্বিকভাবে দেশে ভোটের অনুকূল আবহ সৃষ্টি হয়েছে।

সহিংসতা ও বর্জনের মধ্যে দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন প্রতিহিংসা ও সহিংসতায় পরিণত না হয়, সে দিকে দৃষ্টি দিতে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার নূরুল হুদা।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হয়েছিল। বিএনপিসহ বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল ওই নির্বাচন বর্জন করেছিল। নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট জয়লাভ করে সরকার গঠন করেছিল। আর জাতীয় পার্টি বিরোধী দলের আসনে বসে। তবে সরকারের মন্ত্রিসভায়ও জাপার কয়েকজন সাংসদও আছেন।

Print Friendly, PDF & Email