বাঙালিনিউজ

বাঙালিনিউজ
খেলারডেস্ক

গতকাল ১৫ অক্টোবর ২০১৮ সোমবার রাতে (বাংলাদেশ সময়), স্পেনের সেভিয়ায় উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচে স্বাগতিক স্পেনকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। গত মাসে নিজেদের ঘরের ম্যাচে স্পেনের কাছে হেরেছিল ইংল্যান্ড। এবার স্পেনকে তাদের ঘরের মাঠে হারিয়ে মধুর প্রতিশোধ নিল গ্যারেথ সাউথগেটের ইংল্যান্ড।

গত মাসে ১৯৬৬ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড নিজেদের প্রথম ম্যাচে তাদেরই মাঠে, লুইস এনরিকের দল ২০১০ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনের কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল।

বিশ্বকাপে হতাশাজনক বিদায়ের পর, তিন ম্যাচের সবকটিতে জেতা স্পেন গত রাতে ম্যাচের ৫ মিনিটেই গোল পেতে পারতো। কর্নারে স্পেনের মার্কোস আলোনসোর হেড গোললাইন থেকে জর্ডান পিকফোর্ড ফেরানোর ফলে গোল খায়নি ইংল্যান্ড।

তবে এরপর পাল্টে যায় ম্যাচের চিত্র। প্রথমার্ধেই ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ফলে ম্যাচ চলে যায় এবারের ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালিস্ট ইংল্যান্ডের দখলে।

স্পেনের মাঠে এই ম্যাচে দুর্দান্ত এক প্রতি-আক্রমণে ১৬ মিনিটের মাথায় এগিয়ে যায় অতিথি ইংল্যান্ড। স্পেনের একটি আক্রমণ রুখে দিয়ে পিকফোর্ড বল বাড়ান হ্যারি কেইনকে। টটেনহ্যাম হটস্পারের পিকফোর্ডের কাছ থেকে বল পেয়ে মার্কাস র‌্যাশফোর্ডের হ্যারি কেইন দ্রুত পাস দেন রাহিম স্টার্লিংকে। প্রথম ছোঁয়ায় বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে বুলেট গতির শটে গোলটি করেন ম্যানচেস্টার সিটি মিডফিল্ডার রাহিম স্টার্লিং। ৩ বছর ও ২৭ ম্যাচ পর জাতীয় দলের হয়ে গোল করলেন স্টার্লিং।

শুরু থেকে লম্বা পাসে খেলা ইংলিশদের ব্যবধান দ্বিগুণ করা গোলটিও আসে পাল্টা-আক্রমণে। ম্যাচের ২৯ মিনিটে পিকফোর্ডের উঁচু করে বাড়ানো বল ধরে কেইন বাড়ান র‌্যাশফার্ডকে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ফরোয়ার্ড র‌্যাশফার্ড প্রথম ছোঁয়ায় বল নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে জোরালো শটে স্পেনের জালে জড়িয়ে দেন। ফলে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।

২ গোলের ধাক্কা না সামলাতেই, তৃতীয় গোল হজম করতে হয় স্পেনকে। ম্যাচের ৩৮ মিনিটের এই গোলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল রাশিয়া বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইনের। ডান দিক থেকে তার গোলমুখে বাড়ানো বল টোকা দিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন স্টার্লিং। দেশের পক্ষে এটা তার চতুর্থ গোল।

বাঙালিনিউজ

ম্যাচের ৫৮ মিনিটে ইংল্যান্ডের জালে বল জড়িয়ে গোল ব্যবধান ৩-০ থেকে ৩-১ করে লড়াইয়ে ফেরার আভাস দেয় স্পেন। রিয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডার মার্কো আসেনসিওর কর্নারে দারুণ হেডে গোলটি করেন আগের মিনিটেই স্পেনের বদলি খেলোয়াড় পাকো আলকাসের।

এর মাত্র ৫ মিনিট পর পিকফোর্ডের ভুলে ফের গোল খেতে খেতে বেঁচে যায় ইংল্যান্ড। কারণ, পিকফোর্ডের কাছ থেকে বল কেড়ে নেন স্পেনের রদ্রিগো। কিন্তু ভালেন্সিয়া ফরোয়ার্ড রদ্রিগোকে পেছন থেকে ইংল্যান্ড দলের হয়ে খেলা এভারটন গোলরক্ষক বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে, পেনাল্টির জোরালো আবেদন করে স্পেন। তবে রেফারির সাড়া মেলেনি।

শেষ দিকে একের পর এক আক্রমণ করে স্পেন। নির্ধারিত সময়ের শেষ ১০ মিনিটে দারুণ দুটি সুযোগ পায় তারা। কিন্তু আসেনসিওর জোরালো শট পোস্ট ঘেঁষে চলে যাওয়ার পর, গোলমুখে বলে আর পা লাগাতেই পারেননি বদলি নামা আলভারো মোরাতা।

এরপর ৭ মিনিট যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে আসেনসিওর হেড ক্রসবারের নিচের দিকে লেগে ফেরে। পরের মিনিটে রিয়াল মিডফিল্ডার দানি সেবাইয়োসের ক্রসে হেড করে ব্যবধান আরও কমান সের্হিও রামোস। ফলে ম্যাচের চিত্র দাঁড়ায় ইংল্যান্ড-স্পেন, ৩-২। এরপর কোনো পক্ষই আর গোল করার সুযোগ ও সময় কোনোটাই পায়নি। ফলে ৩-২ গোলে স্পেনকে হারিয়ে মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ডে।

১৫ বছর পর ঘরের মাঠে কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে হারলো স্পেন। ২০০৩ সালে গ্রিসের কাছে হারের পর, ৩৮ ম্যাচ অপরাজিত ছিল তারা। আর ৩১ বছর পর স্পেনের মাঠে প্রথম জয় পেল ইংল্যান্ড।

এই প্রথম জয় পেয়ে ইংল্যান্ড ৪ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থান উঠলেও, তিন ম্যাচে দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ লিগের গ্রুপ-৪ এ এখনও শীর্ষে আছে স্পেন। আর দুই ম্যাচে ১ পয়েন্ট পেয়েছে ক্রোয়েশিয়া।

Print Friendly, PDF & Email