বাঙালিনিউজ
স্বাস্থ্যডেস্ক

বয়স্ক মানুষদের প্রয়োজন ছাড়া দৈনিক অ্যাসপিরিন খাওয়া উচিত নয়, জানা গেছে অস্ট্রেলিয়ার এক গবেষণা থেকে।

অ্যাসপিরিন মূলত হৃদরোগ আছে এমন মানুষদের দেওয়া হয়। হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের পর তা উপকারী। কিন্তু ৭০ বছরের বেশি বয়সী সুস্থ মানুষদের জন্য তা দৈনিক খাওয়ার কোনো দরকার নেই। এমনকি এ বয়সে দৈনিক অ্যাসপিরিন খাওয়া হলে শরীরে অভ্যন্তরীণ রক্তপাত হবার ঝুঁকি থাকে। এ কারণে নিজ উদ্যোগে দৈনিক অ্যাসপিরিন খাওয়ার ব্যাপারে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডাক্তাররা।

অ্যাসপিরিন মূলত রক্ত পাতলা করে এবং পুনরায় হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়। অনেক সুস্থ মানুষও ইদানিং অ্যাসপিরিন খান যাতে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। অ্যাসপিরিন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় কিনা, তা নিয়েও গবেষণা চলছে। তবে সাম্প্রতিক এই গবেষণায় দেখা যায়, বয়স বাড়ার সাথে সাথে অ্যাসপিরিন খাওয়ায় ঝুঁকিটাও বাটে।

যুক্তরাষ্ট্র এবং অস্ট্রেলিয়ার ১৯,১১৪ জন সুস্থ মানুষের ওপর এই গবেষণা করা হয়। তাদের কারোই হৃদরোগের ইতিহাস ছিল না। তাদের অর্ধেককে পাঁচ বছরের জন্য কম ডোজের অ্যাসপিরিন খেতে দেওয়া হয় দৈনিক। গবেষণায় দেখা যায়, এই ওষুধটি খাওয়ার ফলে তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি কমতে দেখা যায়নি, অন্য কোনো স্বাস্থ্য সুবিধাও পাওয়া যায়নি। বরং তাদের পেটে অভ্যন্তরীণ রক্তপাতের ঘটনা বাড়তে দেখা যায়। গবেষকরা বলেন, এই ফলাফল থেকেই বোঝা যায়, ৭০ বছরের বেশি বয়সে হৃদরোগের ইতিহাস না থাকলে অ্যাসপিরিন গ্রহণ করাটা নিতান্তই অপ্রয়োজনীয়।

তবে যাদের হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হয়েছে এবং ডাক্তার তাদেরকে অ্যাসপিরিন খেতে দিয়েছেন, তাদের ওষুধ চালিয়ে যেতে হবে। গবেষণার ফলাফল তাদের জন্য খাটে না। আবার যারা নিয়মিত কম ডোজের অ্যাসপিরিন দৈনিক খাচ্ছেন, তাদেরও হুট করে এই ওষুধ বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়। বরং ডাক্তারের সাথে কথা বলে ধীরে ধীরে বন্ধ করাই ভালো।

সূত্র: বিবিসি

Print Friendly, PDF & Email