বাঙালিনিউজ
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আজ বুধবার সকালে বঙ্গভবনে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ছবি: বাসস

বাঙালিনিউজ
জাতীয়ডেস্ক

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আজ ০৫ জুন ২০১৯ বুধবার সকালে বঙ্গভবনে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ইসলাম হচ্ছে শান্তি ও কল্যাণের ধর্ম। তিনি মুসলমানদের প্রতি সকলের মাঝে এই মহান ধর্মের মহত্ব ও আদর্শ ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এখানে হিংসা-বিদ্বেষ ও সহিংসতার কোনও জায়গা নেই।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ইসলাম এমন এক ধর্ম যেখানে মানবিক মূল্যবোধ, শান্তিপূর্ণ সহঅবস্থান, পরম সহিষ্ণুতা, সাম্য, বন্ধুত্ব ও শাশ্বত কল্যাণের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। আবদুল হামিদ বলেন, ঈদুল ফিতরের মর্মার্থ হচ্ছে শান্তিপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণ, যা ধনী-দরিদ্র, আমির-ফকির সকল শ্রেণীর লোকদের এক কাতারে নিয়ে আসে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ এক মাস রোজা শেষে পবিত্র ঈদ ধনী-নির্ধন, উঁচু-নিচু নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর লোকদের মাঝে ভালবাসা, সম্প্রীতি ও ঐক্যের সুদৃঢ় বন্ধন তৈরি করে। ঈদুল ফিতরের এই শিক্ষা সকলের মাঝে ছড়িয়ে যাবে এবং একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণে সহায়ক হবে বলেও রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বলেন, মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর অপার খুশি আর আনন্দের বারতা নিয়ে আসে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদুল ফিতর মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব হলেও ঈদের এ আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে সবার মাঝে, সারা বাংলায়। শহরবাসী মানুষ শিকড়ের টানে ফিরে যান গ্রামে, আপনজনের কাছে। মিলিত হন আত্মীয়-স্বজনের সাথে।সবাই এক কাতারে শামিল হন এবং ঈদের আনন্দকে ভাগাভাগি করে নেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ধর্ম মানুষকে আলোর পথ দেখায়। আলোকিত মানুষ গড়ার প্রেরণা যোগায়। তাই ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জন্য সম্প্রতি ও সৌহার্দের মিলনমেলায় পরিণত হোক-এটাই সকলের প্রত্যাশা।

এর আগে ঈদ উপলক্ষে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও তার স্ত্রী রাশিদা খানম। রাষ্ট্রপতির পরিবারের সদস্যরা এসময় উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও তার পত্নী রাশিদা খানম আহুত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, সংসদ সদস্য, মহা পুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি), বিচারপতিগণ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিবৃন্দ, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, সিনিয়র সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী এবং ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাগণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া ডিপ্লোম্যাটিক কোরের ডিন ভ্যাটিকানের রাষ্ট্রদূত আর্চ বিশপ জর্জ কোচেরি, ভারতের হাই কমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাস, ব্রিটিশ হাই কমিশনার রবার্ট ডিকসন ও বিভিন্ন মুসলিম দেশের রাষ্ট্রদূতরাসহ বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারগণ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের প্রধানগণ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

বঙ্গভবনের দরবার হলে গরু ও মুরগির মাংসের কয়েকটি পদ, খিচুড়ি, পোলাও, দই বড়া এবং বিভিন্নরকম মিষ্টান্ন ও ফল দিয়ে দিয়ে আমন্ত্রিত অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়। সূত্র: বাসস, বিডিনিউজ।

Print Friendly, PDF & Email