বাঙালিনিউজ
আন্তর্জাতিকডেস্ক

ইরান থেকে তেল কিনবে চীনা কোম্পানি। চীনের বেসরকারি তেল কোম্পানি ডংমিং পেট্রোকেমিক্যাল গ্রুপের একজন নির্বাহী কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন। বলেছেন, তাঁরা কোম্পানি আমেরিকা থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন এবং ইরান থেকে তেল কিনতে যাচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ‘জাপান টুডে’ পত্রিকা এ খবর দিয়েছে। সূত্র: পার্সটুডে
পত্রিকাটির খবরে বলা হয়, ওই কর্মকর্তা বলেছেন, চীন সরকার মার্কিন তেল আমদানির ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করেছে এবং সে কারণে তারা আফ্রিকা ও ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে তেল কিনবেন।

চীনা তেল কোম্পানির এ শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, চীন ও আমেরিকার মধ্যকার বাণিজ্যিক লড়াইয়ের কারণে তারা এ চিন্তা করতে বাধ্য হয়েছেন। চীন সরকারও মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল কেনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারি পর্যায়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাপান টুডে।

জেটিডি এনার্জির কনসালট্যান্ট জন ড্রিসকলের বরাত দিয়ে জাপানি পত্রিকাটি আরো বলেছে, তেল সরবরাহের ইস্যুটি চীনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তেল রপ্তানিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসে নি: ইরান

সাংবদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন ইরানের তেলমন্ত্রী বিজান জাঙ্গানেহ। ছবি: পার্সটুডে
এদিকে পার্সটুডে অপর এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের তেলমন্ত্রী বিজান জাঙ্গানেহ বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি সত্ত্বেও তার দেশের তেল উত্তোলন ও রপ্তানিতে বড় কোনো পরিবর্তন বাসে নি।

বিজান জাঙ্গানেহ বলেন, মার্কিন হুমকি মোকাবেলার জন্য ইরান এরইমধ্যে একটি পরিকল্পনা নিয়েছে এবং সে পরিকল্পনা সফলতার সঙ্গে কাজও করছে। তিনি আরো বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইরান-বিরোধী নানা তৎপরতার কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে।

তেল উত্তোলন বাড়াতে সৌদি আরবের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য ইরানি মন্ত্রী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, মার্কিন প্রচেষ্টার কারণে তেলের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে। এ ধরনের চাপ তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেকের নীতিমালার বিরোধী বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ইরান ও সৌদি আরব- দু দেশই এ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। জাঙ্গানেহ বলেন, ওপেকের নীতি হচ্ছে রাজনৈতিক চাপের কারণে কখনো আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের গতি পরিবর্তন করা যাবে না।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ইরানকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রি করতে দেয়া হবে না এবং দেশটির তেলের উত্তোলন শূণ্যের কোঠায় আনা হবে। এর জবাবে ইরানি প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি বলেছেন, ইরান তেল বিক্রি করতে না পারলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে কাউকে তেল বিক্রি করতে দেয়া হবে না।

Print Friendly, PDF & Email