বাঙালিনিউজ
ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী পারভীন

বাঙালিনিউজ
নিজস্ব প্রতিবেদক

গতকাল ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ রোববার রাতে, ঢাকায় ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী পারভীন নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে নিজের বাসায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত মাহফুজা চৌধুরী মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভাইস চেয়ারম্যান ইসমত কাদির গামার স্ত্রী। গামা সত্তরের দশকের প্রথম দিকে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ঢাকা কলেজের সামনের বহুতল ভবন ‘সুকন্যা টাওয়ারের’ ১৫ ও ১৬ তলা মিলিয়ে একটি ‘ডুপ্লেক্স’ বাসায় থাকতেন গামা ও মাহফুজা। সেখান থেকেই রোববার সন্ধ্যার পর মাহফুজার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ৬৬ বছর বয়সী মাহফুজা চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ।

নিউ মার্কেট থানার ওসি আতিকুর রহমান মিডিয়াকে বলেন, ওই বাসায় তিনজন গৃহকর্মী কাজ করতেন। তাদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব নারীটি বাসায় আছেন। বাকি দুইজনকে পাওয়া যাচ্ছে না। এদের একজনের বয়স ৩০ এবং অন্যজনের বয়স ৩৫ বছরের মতো।

মাহফুজা চৌধুরীকে ১৬ তলায় তার বিছানায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় জানিয়ে তিনি বলেন, “তার মুখে বালিশচাপা ছিল। বিছানায় ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ঘুমন্ত অবস্থায় মুখে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর দুই গৃহপরিচারিকা আলমারি থেকে মূল্যবান কিছু নিয়ে গেছে।”

বাঙালিনিউজ

ঘটনার পর ওই বাসায় গিয়ে ইসমত কাদির গামাকে পাওয়া যায়। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ১৬ তলার দরজা দিয়ে বাসায় ঢুকতে গিয়ে দেখেন ভেতর থেকে বন্ধ। পরে নিচে নেমে অনেক ডাকাডাকির পর বৃদ্ধা গৃহকর্মী দরজা খুলে দেন।

গামা বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বাসায় এসে দেখি মাহফুজা মৃত। তারা (গৃহকর্মীরা) বালিশ চাপা দিয়ে আমার স্ত্রীকে খুন করে পালিয়েছে।

বাসায় ঢুকে খাটের ওপর স্ত্রীকে শুয়ে থাকতে দেখেন জানিয়ে তিনি বলেন, “দেখি তার পা খাট থেকে ঝুলে আছে। পরে ঘটনা বুঝতে পারি।” ঘরের আলমারি খোলা দেখতে পান জানিয়ে গামা বলেন, “আলমারিতে বেশ বড় অংকের টাকা ছিল সেগুলো নিয়ে গেছে। আর ওই গৃহকর্মীদের ছবি তোলা হয়েছিল একটি মোবাইলে, সেই মোবাইলটাও নিয়ে গেছে।”

বাসায় থাকা গৃহকর্মীর বরাত দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা আছি, তুমি ঘুমাও-ওই দুইজনের এই কথায় তিনি ১৫ তলার একটি ঘরে ঘুমিয়েছিলেন।” ১৫ তলায় একটি ডাইনিং, একটি ড্রয়িং এবং একপাশে রান্নাঘর ও তার পাশে ছোট একটি কক্ষ রয়েছে। ওই কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন বলে জানিয়েছেন ওই গৃহকর্মী।

যে দুজন গৃহকর্মীকে সন্দেহ করা হচ্ছে, তাদের মাস দুয়েক আগে কিশোরগঞ্জ ও শরীয়তপুর থেকে আনা হয়েছিল বলে জানান ইসমত কাদির গামা। “এই বিল্ডিংয়ের এক মহিলার মাধ্যমে তাদের এনেছিল মাহফুজা।” তাদের পরিচয় পাওয়া গেছে জানিয়ে ওসি আতিকুর বলেন, “তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।”

বাঙালিনিউজ
দুই গৃহকর্মী স্ত্রীকে হত্যার পর টাকা-স্বর্ণালঙ্কার লুটে নিয়েছে বলে অভিযোগ ইসমত কাদির গামার

গামা-মাহফুজা দম্পতির দুই ছেলে। তাদের একজন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা এবং অপরজন ব্যাংকার। তারা দুই ভাই আলাদা থাকেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফ্ল্যাট থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, বাসার দুইজন গৃহকর্মীকে পাওয়া যাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে তারাই কিছু করেছে। পুলিশ খুনি হিসেবে প্রাথমিকভাবে তাদেরই সন্দেহ করছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। কীভাবে মাহফুজা চৌধুরীর মৃত্যু হয়েছে, সে প্রশ্নের জবাবে উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, ময়নাতদন্তের আগে তা বলা যাচ্ছে না।

নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, ওই বাসার স্বর্ণালঙ্কার খোয়া গেছে বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, গৃহকর্মীরা তা নিয়ে পালিয়েছে। তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

নূর হোসেন নামে সুকন্যা টাওয়ারের একজন দারোয়ান সাংবাদিকদের বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ১৫/এ ফ্ল্যাট থেকে তাদের ফোন করে দ্রুত ডাক্তার পাঠাতে বলা হয়। ম্যাডাম ফোন করে বলেন, উনি (মাহফুজা) খুব অসুস্থ। কাজের মেয়েরা চলে গেছে। দ্রুত ডাক্তার পাঠান।

Print Friendly, PDF & Email