আগামীকাল আংশিক সূর্যগ্রহণ

বাঙালিনিউজ
লাইফস্টাইলডেস্ক

আজ ১৩ জুলাই ২০১৮ শুক্রবার আংশিক সূর্যগ্রহণ৷ ভোরে সূর্যের আংশিক গ্রহণ ঘটবে। তবে সূর্যগ্রহণটি বাংলাদেশে দেখা যাবে না। বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টা থেকে ৮টার পর্যন্ত গ্রহণটি স্থায়ী হবে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস মিডিয়াকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গ্রহণটির কেন্দ্রীয় গতিপথ দক্ষিণ মহাসাগরে। গ্রহণের সর্বোচ্চ মাত্রা হবে ০.৩৩৫। দক্ষিণ-পূর্ব অস্ট্রেলিয়া হতে উত্তর অ্যান্টার্কটিকা পর্যন্ত গ্রহণটি দৃশ্যমান হবে।
পৃথিবীর আরেক প্রান্তে থাকায় বাংলাদেশ থেকে এ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে না। বাংলাদেশে পরবর্তী সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে ২০১৯ সালের ২৬ ডিসেম্বর। তবে এটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ নয়, এটা হবে আংশিক সূর্যগ্রহণ। বাংলাদেশ থেকে পরবর্তী বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে অনেক দিন পর। সেই ২০৬৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি।

বাংলাদেশে সর্বশেষ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা গেছে ২০০৯ সালের ২২ জুলাই। সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে ৯টা ৫ মিনিট পর্যন্ত দেখা গিয়েছিল ওই গ্রহণ। তবে কেবল পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও থেকে এ গ্রহণ দেখা গেছে শতভাগ। তখন এ গ্রহণকে কেন্দ্র করে দেশ-বিদেশের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এসে ভিড় করেছিলেন পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁওয়ে। ২০১০ সালে বলয়গ্রাস গ্রহণ দেখা গেছে বাংলাদেশ থেকে।

চাঁদ যখন পরিভ্রমণরত অবস্থায় কিছু সময়ের জন্য পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে পড়ে, তখন পৃথিবীর কোনো দর্শকের কাছে সূর্য আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে অদৃশ্য হয়ে যায় (কিছু সময়ের জন্য)। এ ঘটনাকে সূর্যগ্রহণ বলা হয়। আমাবশ্যার পরে নতুন চাঁদ উঠার সময় এ ঘটনা ঘটে। পৃথিবীতে প্রতি বছর অন্তত দুই থেকে পাচঁটি সূর্যগ্রহণ পরিলক্ষিত হয়। এর মধ্যে শূন্য থেকে দুইটি সূর্যগ্রহণ পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হয়।

সূর্যগ্রহণের সময় আবহাওয়ার তাপমাত্রা দ্রুত হ্রাস পায়। সেই তাপমাত্রা কিরকম কমছে প্রতি ১৫ সেকেণ্ড অন্তর একটা গ্রাফ কাগজে সারি করে সংগ্রহ করা যেতে পারে। গ্রহণের ১০ মিনিট আগে থেকে শুরু করে শেষ হওয়ার ১০ মিনিট পর পর্যন্ত। শুধু একটা ঘড়ি ও থার্মোমিটার হলেই চলবে। তবে আবহাওয়ার চেয়ে মাটি, পাথর ইত্যাদির তাপমাত্রা তাড়াতাড়ি বাড়ে ও কমে।

তবে এই সূর্যগ্রহণ নিয়ে সমাজে বেশ কিছু কুসংস্কার রয়েছে৷ যা দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মধ্যে প্রচলিত রয়েছে। তবে সতেরো শতকে (১ সেপ্টেম্বর ১৬৪৪) প্রথম সূর্যগ্রহণ দেখার নথি রয়েছে।

সূর্যগ্রহণ নিয়ে যে সংস্কারটি মানবেন

সূর্যগ্রহণের সময় সূর্যের দিকে সরাসরি তাকানো বারণ। এই সংস্কার অবশ্যই মানবেন। সত্যি বলতে, যেকোনো সময়েই সূর্যের দিকে সরাসরি তাকাতে নেই। সে হোক গ্রহণের সময়, কিংবা স্বাভাবিক সময়ে। সূর্যগ্রহণ দেখতে কাঁসার পাত্রে জল থেকে শুরু করে ব্যবহার করা হয়েছে ফেলে দেওয়া এক্স-রে প্লেটও। এখন অবশ্য বিশেষ রোদচশমা দিয়ে সূর্যগ্রহণ দেখা যায়।

সূর্যগ্রহণ নিয়ে কোনো কুসংস্কারে পাত্তা দেওয়ার কোনো মানে নেই। আপনি যদি প্রসূতি মা হয়ে থাকেন, নিজের শরীরের যত্ন নিন। অনাগত সন্তানের জন্য শরীরে যথেষ্ট পুষ্টির ব্যবস্থা করুন। এখানে কিছু প্রচলিত কুসংস্কার তুলে ধরা হলো-

১. সূর্যগ্রহণের সময় জন্ম নেওয়া শিশুদের ব্যাপারে দুই ধরনের গল্প শুনতে পাওয়া যায়। এক, শিশুটি অসুস্থ হবে এবং দুই, শিশুটি চালাক হবে। তবে এ দুটি ধারণার কোনোটার ক্ষেত্রেই বিশ্বাস করার মতো যুক্তি বা তথ্য পাওয়া যায় না।

প্রাচীন অ্যাজটেক সভ্যতায় বিশ্বাস করা হতো, চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের এক টুকরো খেয়ে ফেলা হয়। ম্যাক্সিকান সংস্কৃতিতে এটা বিশ্বাসে পরিণত হয়, প্রসূতি মা সূর্যগ্রহণ দেখলে তার অনাগত সন্তানের এক টুকরো খেয়ে নেবে দেবতারা!

২. হিন্দু বিশ্বাসে রাহু গ্রাস করে সূর্য বা চন্দ্রকে। তাই এই সময় গর্ভবতী মহিলাদের ঘরের বাইরে বেরনো বারণ। তাতে সন্তানের মুখ বিকৃত হতে পারে, জন্ম চিহ্ন থেকে যেতে পারে বলে ধারণা। তবে এর কোনও বাস্তব সম্মত ব্যাখ্যা মেলে না। সূর্যগ্রহণ দেখতে গিয়ে সূর্যের দিকে খালি চোখে তাকালে চোখ খারাপ এমনকী, অন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও থাকতে পারে। সে গর্ভবতী মহিলা শুধু নয়, যে কোনও কারও ক্ষেত্রেই এটি হতে পারে। আলাদা করে গর্ভবতী মহিলাদের শারীরিক কোনও ক্ষতি হয় বলে প্রমাণ মেলে নি।

৩. গ্রহণের সময় শাড়িতে পিন বা সাধারণ ভাবে সেফটিপিন, কোনও গয়না পরতে বারণ করা হয়। নিষেধ থাকে ছুরি বা বঁটি দিয়ে ফল-সবজি কাটাতেও। এতে নাকি বিপদ হতে পারে। এর কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি পাওয়া যায় নি।

৪. মেক্সিকানরা মনে করেন আবার উল্টোটা। তাঁদের কুসংস্কার, গ্রহণের সময় গর্ভবতী মহিলারা পেটের কাছে ছুরি ধরে বসে থাকতে পারেন বা লাল অন্তর্বাস পরতে পারেন। এতে নাকি গ্রহণের কু-প্রভাব পড়ে না। রক্ষা পায় গর্ভের সন্তান।

৫. সূর্যগ্রহণে গর্ভবতী মায়েদের শান্তি নেই। সেন্ট লুইসে অবস্থিত মার্সি হাসপাতালের গাইনোকোলজিস্ট শাফিয়া ভুট্টোর মতে, সূর্যগ্রহণের সময় পাকিস্তানে মায়েদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে চিত করে শোয়ানো হতো। নইলে নাকি গর্ভের শিশু বিকলাঙ্গ হয়!

৬. প্রচলিত আছে, সূর্যগ্রহণের ১২ ঘণ্টা এবং চন্দ্রগ্রহণের ৯ ঘণ্টা আগে থেকে খাবার গ্রহণ করা বারণ। এ সময় যৌন সংসর্গ বারণ, নিষেধাজ্ঞা রয়েছে মলমূত্র ত্যাগেও। তবে এসব ধারণার সুস্পষ্ট কারণ উল্লেখ নেই এবং নিশ্চিত ভাবেই কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই। সূত্র: আরটিভি অনলাইন, কলকাতা ২৪x৭.কম।

Print Friendly, PDF & Email