বাঙালিনিউজ

বাঙালিনিউজ
দ্যুতিময় বুলবুল
০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, শুক্রবার

আজ ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ শুক্রবার, ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯’ শুরু। রাজধানী ঢাকায় বাংলা একাডেমি চত্তর ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান জুড়ে শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী এই গ্রন্থমেলা। এবারের গ্রন্থমেলার মূল প্রতিপাদ্য ‘বিজয়: ১৯৫২ থেকে ১৯৭১, নবপর্যায়’। আর এই গ্রন্থমেলাকে ঘিরে লেখক, পাঠক, প্রকাশকদের মাসব্যাপী মিলনমেলা বসছে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান-সহ পুরো এলাকায়।

আজ বিকাল তিনটায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে মাসব্যাপী এই গ্রন্থমেলার উদ্বোধন করবেন, অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তৃতা করবেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। স্বাগত ভাষণ প্রদান করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। সভাপতিত্ব করবেন একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

অনুষ্ঠানে বিদেশি অতিথি থাকবেন বাংলা ভাষার এ সময়ের বিশিষ্ট কবি, পশ্চিমবঙ্গের শঙ্খ ঘোষ এবং মিসরের লেখক, গবেষক ও সাংবাদিক মোহসেন আল-আরিশি। আল-আরিশি ‘শেখ হাসিনা: যে রূপকথা শুধু রূপকথা নয়’ শীর্ষক গ্রন্থের লেখক। গ্রন্থটির অনুবাদ প্রকাশ করছে বাংলা একাডেমি। লেখকের উপস্থিতিতে বইটি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেয়া হবে।

বাঙালিনিউজ

অনুষ্ঠানে ২০১৮ সালের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেলা পরিদর্শন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুধু আমন্ত্রিত অতিথিরাই থাকবেন।

এবার একুশের বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অংশের পরিসর ৩ লাখ বর্গফুট। অমর একুশে গ্রন্থমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশকে ৪টি চত্বরে বিন্যস্ত করা হয়েছে। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী গতকাল ৩১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মেলার সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ, একাডেমির সচিব আবদুল মান্নান ইলিয়াস, গ্রন্থমেলার ইভেন্ট ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান নিরাপদ মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন ও মেলার পৃষ্ঠপোষক বিকাশ লিমিটেডের সিএমও মীর নওবত আলী। সংবাদ সম্মেলনে গ্রন্থমেলার নতুন লোগো উপস্থাপন করেন মেলার স্থপতি এনামুল করিম নির্ঝর।

মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ জানান, বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় ৩ লাখ বর্গফুট জায়গায় এবারের মেলা অনুষ্ঠিত হবে। যা গতবারের চেয়ে প্রায় ২৫ হাজার বর্গফুট বেশি। মেলার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণটির নামকরণ করা হয়েছে ভাষা শহীদ বরকতের নামে। আর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণকে চারটি চত্বরে ভাগ করে উৎসর্গ করা হয়েছে ভাষা শহীদ সালাম, রফিক, জব্বার ও শফিউরের নামে। পাঁচ ভাষা শহীদের নামে উৎসর্গকৃত এবারের মেলার দুই প্রাঙ্গণের প্রতিটি চত্বরের সাজসজ্জায় থাকবে পৃথক রঙের ব্যবহার।

বাঙালিনিউজ

তিনি জানান, একাডেমি প্রাঙ্গণে ১০৪টি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ১৫০টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৩৯৫টি প্রকাশনা সংস্থাকে ৬২০টি ইউনিট এবং বাংলা একাডেমিসহ ২৪টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ২৪টি প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। লিটল ম্যাগাজিন চত্বরে ১৮০টি লিটলম্যাগকে ১৫৫টি স্টল দেয়া হয়েছে। ২৫টি স্টলে দুটি করে লিটল ম্যাগাজিনকে স্থান দেয়া হয়েছে। অন্য ১৩০টি প্রতিষ্ঠান পৃথক স্টল পেয়েছে। একক ক্ষুদ্র প্রকাশনা সংস্থা এবং ব্যক্তি উদ্যোগে যারা বই প্রকাশ করেছেন তাদের বই বিক্রি ও প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকবে জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্রের স্টলে।

গ্রন্থমেলায় টিএসসি ও দোয়েল চত্বর উভয় দিক দিয়ে দুটো মূল প্রবেশপথ, বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে তিনটি পথ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ ও বাহিরের মোট ৬টি পথ থাকবে। গ্রন্থমেলার প্রবেশ ও বাহিরপথে পর্যাপ্ত সংখ্যক আর্চওয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জালাল আহমেদ বলেন, এবার প্রথমবারের মতো ‘লেখক বলছি’ মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। যাতে প্রতিদিন পাঁচজন করে লেখক নিজেদের বই নিয়ে পাঠকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন। একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, ২০২০ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ ও ২০২১ সালে বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের যাত্রাও শুরু হবে এ মেলা থেকে।

বইমেলা ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ছুটির দিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা এবং ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মেলা চলবে। মেলায় নানা বিষয়ে গুণীজনদের নামাঙ্কিত পুরস্কার প্রদান করা হবে সমাপনী দিনে।

বাঙালিনিউজ

মেলার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থা। কঠোর নিরাপত্তার জন্য মেলায় তিন শতাধিক ক্লোজসার্কিট ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া মিডিয়াকে বলেন, বইমেলায় আগত সবাইকে নিরাপত্তা বলয় পেরিয়ে প্রবেশ করতে হবে। প্রবেশ পথে আর্চওয়ে, ফুট পেট্রোলিং ব্যবস্থা, পোশাকধারী পুলিশের অবস্থান, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ, স্পেশাল ব্রাঞ্চ ও আইএডি শাখার সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। গতকাল সকালে বইমেলার নিরাপত্তা নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বাঙালির মায়ের ভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা প্রতিষ্ঠার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে ঢাকার রাজপথে শহীদ হন রফিক, বরকত, সালাম, জব্বার, শফিউররা। বাংলা মায়ের এই অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তানদের আত্মদানের বিনিময়ে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে আমরা প্রতিষ্ঠিত করেছি, তৎকালিন পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর সকল দমন-পীড়ন এবং চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করে। সেই চেতনায় উজ্জীবিত হয়েই প্রতি বছর আমরা ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে এই গ্রন্থমেলার আয়োজন করি। আজ এই গ্রন্থমেলা বাংলাদেশ ও বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং গৌরব ও গর্বের অংশ।

Print Friendly, PDF & Email