বাঙালিনিউজ
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

বাঙালিনিউজ
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেছেন, ের নির্বাচনী ইশতেহার মনোনয়নপর্ব শেষে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবে

তিনি বলেন, ‘মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের তারিখের পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবেন।’ সেতুমন্ত্রী আরো বলেন, শুধু নির্বাচনকে সামনে রেখে নয়, আগামী প্রজন্মকে সামনে রেখে দেশের উন্নয়ন করেছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনী ইশতেহারেও তা প্রতিফলিত হবে।

আজ ৩০ নভেম্বর ২০১৮ শুক্রবার, আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমণ্ডির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন। এ সময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এস এম কামাল হোসেন ও আনোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তিনি বলেন, এবার দলের মনোনয়নের ক্ষেত্রে রাজনীতিকদেরই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। গতবারের চেয়ে এ সংখ্যা আরও বেড়েছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সর্বমোট আসন সংখ্যার মধ্যে ১৬ থেকে ১৭ জন ব্যবসায়ী মনোনয়ন পেয়েছেন। এছাড়া ৪০ জনের কাছাকাছি মুক্তিযোদ্ধা। ৪৫ জন আছেন নতুন মুখ। এ সংখ্যা আরো বেড়ে ৫০ জনে উন্নীত হতে পারে। তাদের মধ্যে ছাত্রলীগের সাবেক নেতারাও রয়েছেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, “মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনের আগে নিশ্চিত করে বলা যাবে না, কে বিদ্রোহী প্রার্থী। তবে কেউ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী হলে তাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হবে।”

আসন ভাগাভাগি নিয়ে মহাজোটে ক্ষোভ রয়েছে কি না? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “কিছু ক্ষোভ তো থাকতেই পারে। এত বড় মহাজোট। এখানে তো ক্ষোভ-বিক্ষোভ কিছু হবেই। সেই ক্ষোভ প্রশমিতও আমরা করব। কিন্তু প্রত্যাহার পর্যন্ত যাদের ধৈর্য থাকবে না, তাদের জন্য ব্যবস্থা আছে।”

ওবায়দুল কাদের বলেন, রাজনীতি এখন মূল্যবোধ বিবর্জিত হয়ে গেছে। বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের সন্তান ও জঙ্গী অর্থায়নের সঙ্গে জড়িতদেরও মনোনয়ন দিয়েছে। তিনি বলেন, জঙ্গী অর্থায়ন আর জঙ্গী তৎপরতার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। কারণ জঙ্গীদের সাহায্য করা মানে জঙ্গীবাদকে সমর্থন করা।

এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, বিএনপি ও জামায়াত এক আদর্শে বিশ্বাস করে। তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তারা শুধু নামে ভিন্ন, কাজে অভিন্ন। তাই তারা জামায়াতকে শুধু ২৫ জন কেন, ৫০ জন প্রার্থীকেও দলীয় মনোনয়ন দিতে পারে। তারা এক মোহনায় একাকার। বিএনপি জঙ্গীবাদের পৃষ্ঠপোষকতা করে। তারা জামায়াতকে বেশি বেশি মনোনয়ন দেবে সেটাই স্বাভাবিক। এতে অবাক হওয়ার কিছুই নেই।

আওয়ামী লীগ ছেড়ে যারা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে ভিড়েছেন, তাদের ভবিষ্যৎ পরিণতি শুভ হবে না বলে সতর্ক করে ওবায়দুল কাদের বলেন, “তারা তো আওয়ামী লীগেই ছিলেন। তাদের হৃদয়ের রক্তক্ষরণ থাকবে। তারা তো জেনে-শুনে বিষ পান করেছেন, সাম্প্রদায়িক অপশক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। এটা তাদের দীর্ঘদিন তাড়িত করবে।”

একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে কামাল হোসেন নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে আওয়ামী লীগের কয়েক নেতার যোগ দেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

বিএনপিকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গড়েছেন ড. কামাল হোসেন। এক সময় তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন, বঙ্গবন্ধুর সরকারে মন্ত্রীও ছিলেন তিনি। কামাল হোসেনের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে পরে যোগ দিয়েছেন আবু সাইয়িদ, সুলতান মো. মনসুর আহমেদ, কিবরিয়াপুত্র রেজা কিবরিয়া প্রমুখ।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এতদিন ক্ষমতায় আছি, আমরা নির্ভূল, অভ্রান্ত দাবি করি না। আমাদের ভুল-ত্রুটি আছে। তারপরও এটা বলতে পারি, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। বিএনপির চেয়ে আমাদের সরকার বেটার সরকার।’ তিনি বলেন, ‘আমরা উন্নয়নের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। আগের যে কোন সময়ের চেয়ে অনেক বেশি উন্নয়ন উপহার দিয়েছি।’

কাদের বলেন, আমাদের যারা অন্যায় করেছে তাদের কিন্তু আমরা ছাড় দেইনি। আমাদের এমপিরাও জেলে রয়েছেন। তিনি বলেন, দুর্নীতি এখন সারা দুনিয়াতেই রয়েছে। এখন এটা ওয়ে অব লাইফ হয়ে গেছে। কিন্তু আমরা দুর্নীতিকে ছাড় দেইনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের ভুল-ক্রুটি থাকতে পারে। ভুল হলে সংশোধনের সৎ সাহস শেখ হাসিনার আছে। কিন্তু আমাদের রাজনীতি বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের রাজনীতি। আমরা মানুষের মাঝে আছি। তাই ক্ষমতায় না থাকলেও পালিয়ে যাব না।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু জেলখানা থেকে বাইরে পা দিয়ে কুয়াশা ভেজা সকালে এক খণ্ড মাটি কপালে ছুঁইয়ে বলেছিলেন, ‘এই দেশেতেই জন্ম আমরা যেন এই দেশেতেই মরি’। আমরাও এই মাটির সঙ্গেই আছি। বঙ্গবন্ধুও ছিলেন, তার কন্যা শেখ হাসিনাও আছেন। সূত্র: বাসস, বিডিনিউজ।

Print Friendly, PDF & Email

Related posts