বাঙালিনিউজ
গতকাল ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮ বুধবার, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে অরিত্রীর আত্মহত্যার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারসহ বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

বাঙালিনিউজ
নিজস্ব প্রতিবেদক

গতকাল ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮ বুধবার রাতে রাজধানীর উত্তরা থেকে ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজের এই শিক্ষক হাসনা হেনাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার এম আতিকুল ইসলাম মিডিয়াকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলার পর মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনাকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

পুলিশ কর্মকর্তা আতিক জানান, অরিত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তার বাবা দিলীপ অধিকারীর মামলায় এই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ০৪ ডিসেম্বর মঙ্গলবার রাতে পল্টন থানায় করা ওই মামলায় হাসনা হেনার পাশাপাশি রাজধানীর নামি ওই বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস ও প্রভাতি শাখার প্রধান জিনাত আখতারকেও আসামি করা হয়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার খন্দকার নুরুন্নবীও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শিক্ষক হাসনা হেনাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রীর আত্মহত্যার পর সহপাঠি ও অভিভাবকদের বিক্ষোভের মুখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আসামি তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে গতকাল ০৫ ডিসেম্বর বুধবার র‌্যাব ও পুলিশকে চিঠি দেয়।

এর মধ্যে সন্ধ্যায় মামলাটির তদন্তভার পেয়ে তৎপর হয় গোয়েন্দা পুলিশ। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীনসহ অন্য দুই শিক্ষককে খোঁজা হচ্ছে বলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) আব্দুল বাতেন জানিয়েছিলেন। তিনি গতকাল সন্ধ্যায় মিডিয়াকে জানান, “আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। খুব শিগগিরই তাদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।”

মামলা হওয়ার পর গতকাল বুধবার দিনভর স্কুলে দেখা যায়নি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীনসহ অন্য তিন শিক্ষককে। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চললেও আগের দিন স্কুলে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। মামলা দায়েরের পর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন মঙ্গলবার রাতে মিডিয়াকে বলেছিলেন, “শুনেছি আমাকেসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।”

বাঙালিনিউজ

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস (মঙ্গলবারের ছবি)

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গতকাল সন্ধ্যায় ভিকারুননিসা স্কুল ও কলেজ পরিচালনা পর্ষদ জরুরি সভায় বসে তিন শিক্ষককে বরখাস্ত করেন। তার আগে মন্ত্রণালয় ওই তিন শিক্ষকের এমপিও বাতিল করে।

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী গত ০৩ ডিসেম্বর সোমবার আত্মহত্যা করার পর থেকে উত্তেজনা চলছে রাজধানীর নামি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা নানা অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করছেন।

উল্লেখ্য, গত ০২ ডিসেম্বর রোববার বার্ষিক পরীক্ষা চলার সময় মোবাইল ফোনে নকল করার সময় অরিত্রী ধরা পড়েন বলে স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি। ওই ঘটনার পরদিন তার বাবা-মাকে ডেকে নেওয়া হয়। তখন অরিত্রীর সামনে তার বাবা-মাকে অপমান করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপরই ঘরে ফিরে আত্মহত্যা করেন এই কিশোরী।

বাঙালিনিউজ
অরিত্রী অধিকারী

পরদিন গত ০৪ ডিসেম্বর মঙ্গলবার শিক্ষার্থীরা অরিত্রীর আত্মহত্যার ঘটনা নিয়ে স্কুল শিক্ষক ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শুরু করলে, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ নিজে ভিকারুননিসা স্কুলে গিয়ে ঘটনা সম্পর্কে অবগত হন এবং বিচারের আশ্বাস দেন। এরপর দুটি তদন্ত কমিটি করা হয়। একটির প্রতিবেদনে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে শিক্ষামন্ত্রী গতকাল বুধবার জানান।

এদিকে, দিলীপ অধিকারী তাঁর মেয়ের বিরুদ্ধে স্কুল কর্তৃপক্ষের তোলা নকলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে তার মেয়ে মোবাইল নিয়ে স্কুলে গিয়েছিল। মামলার এজাহারে বলা হয়, অরিত্রী অধ্যক্ষের পা ধরে মাফ চাইলেও তাকে ক্ষমা করা হয়নি, তার বাবা-মা করজোড়ে ক্ষমা চাইলেও তাদের কথাও শোনা হয়নি। তাদের অপমান করে বের করে দেওয়া হয়েছে।

দিলীপ মামলায় বলেছেন, শিক্ষকদের ‘নির্মম আচরণে’ মর্মাহত হয়ে অরিত্রী আত্মহত্যায় বাধ্য হয়। একই সাথে শিক্ষকদের ‘নির্দয় ব্যবহার ও অশিক্ষকসুলভ আচরণ’ অরিত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করেছে।

অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারীর অভিযোগ, গত রোববার পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষক অরিত্রীর কাছে মোবাইল ফোন পান। মোবাইলে নকল করেছে—এমন অভিযোগে অরিত্রীকে সোমবার তার মা-বাবাকে নিয়ে স্কুলে যেতে বলা হয়। তিনি স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে সোমবার স্কুলে গেলে ভাইস প্রিন্সিপাল তাঁদের অপমান করে কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। মেয়ের টিসি (স্কুল থেকে দেওয়া ছাড়পত্র) নিয়ে যেতে বলেন। পরে প্রিন্সিপালের কক্ষে গেলে তিনিও একই রকম আচরণ করেন। এ সময় অরিত্রী দ্রুত প্রিন্সিপালের কক্ষ থেকে বের হয়ে যায়। পরে বাসায় গিয়ে দিলীপ অধিকারীর দেখেন, অরিত্রী তার কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়নায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলছে।

Print Friendly, PDF & Email