বাঙালিনিউজ
প্রতীকী ছবি।

বাঙালিনিউজ
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ে যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলায় হাজির হননি। আজ ১৩ মার্চ ২০১৯ বুধবার এই মামলায় অভিযোগ গঠনের জন্য শুনানির দিন ধার্য ছিল। রাজধানীর বকশিবাজার আলিয়া মাদরাসা মাঠে অবস্থিত ঢাকার ২ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক এ এইচ এম রুহুল ইমরানের আদালতে এই শুনানি ছিল। কিন্তু আদালতে হাজির হতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন

আজ বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলার আসামি খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির না করায় কাস্টডি পাঠান কারা কর্তৃপক্ষ। সিনিয়র জেল সুপার স্বাক্ষরিত কাস্টডিতে লেখা হয়, ‘সংশ্লিষ্ট বন্দী বিজ্ঞ আদালতে যেতে অনিচ্ছুক।’

দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেরন কাজল আদালতকে বলেন, উচ্চ আদালতের সকল আদেশ চলে এসেছে। মামলাটির চার্জ গঠনের জন্য শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। আমরা মামলাটির শুনানি করতে চাই।

অপরদিকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, আমরা মামলাটির সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পাইনি। যে সকল কাগজপত্র পেয়েছি চার্জ শুনানির জন্য যথেষ্ট নয়। শুনানির জন্য সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র দরকার। কাগজপত্র চেয়ে আবেদন করেছি। এর উত্তরে মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, আদালতে কাগজপত্র সব তৈরি আছে আপনারা সংগ্রহ করে নেন।

এ সময় মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, সকল আসামি আদালতে উপস্থিত হননি। মামলার আসামি খালেদা জিয়া ও আমিনুল ইসলাম আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছানোর জন্য সময়ের আবেদন করছি। আসামির অনুপস্থিতিতে চার্জ শুনানি হয় না।

আজ সকাল সোয়া ১১টায় আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। শেষ হয় সাড়ে ১২টায়। সব কাগজ পেলে পরবর্তী সময়ে চার্জশুনানি করতে হবে। আদালত আগামী ৯ এপ্রিল মামলার শুনানির জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

আদালতে বাইরে এসে খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থতার কারণে আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। এজন্য আদালত আগামী ৯ এপ্রিল পরবর্তী চার্জ শুনানির দিন ঠিক করেন।

এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার অস্থায়ী বিশেষ জজ-২ এর বিচারক এ এইচ এম রুহুল ইমরান বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ১১ আসামীকে আদালতে উপস্থিত করার আদেশে দেন। এদিন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী খালেদা জিয়াসহ অন্যান্য আসামিকে আদালতে হাজির করার জন্য প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট দেয়ার আবেদন করেন।

এরপর এই বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করার জন্য প্রডাকশন ওয়ারেন্ট বা হাজতি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ শুনানির জন্য আজ ১৩ মার্চ দিন ধার্য করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, এই মামলায় অভিযুক্ত আসামি ১৩ জন। কিন্তু জামায়াত নেতা নিজামী ও মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় বর্তমানে আসামির সংখ্যা ১১ জন। এরা হলেন- বিএনপির চেয়ারপাসন খালেদা জিয়া, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন, সাবেক কৃষিমন্ত্রী এম কে আনোয়ার, সাবেক তথ্যমন্ত্রী এম শামসুল ইসলাম, সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার মো. আমিনুল হক, সাবেক জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, সাবেক জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ সচিব নজরুল ইসলাম, পেট্রোবাংলার সাবেক পরিচালক মুঈনুল আহসান, বড় পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম ও হোসাফ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন।

Print Friendly, PDF & Email

Related posts