বাঙালিনিউজ
অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ

বাঙালিনিউজ
নিজস্ব প্রতিবেদক

অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁকে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, এই প্রখ্যাত নাট্যকার, নির্দেশক ও অভিনেতার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি।

আজ ০১ জুন ২০১৯ শনিবার সন্ধ্যায় জানা গেছে, মমতাজউদদীন আহমদের চিকিৎসক ছেলে সেজান মাহমুদ তিতাস যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে এসেছেন। তিতাস জানিয়েছেন তাঁর বাবা বিপদমুক্ত নন। শরীর অক্সিজেন পাচ্ছে না। কার্বন ডাই–অক্সাইড বেরিয়ে যাচ্ছে। মস্তিষ্কে পানি জমে গেছে। এ পরিস্থিতিতে অলৌকিক কিছু না ঘটলে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টার বেশি রোগীকে টিকিয়ে রাখা যায় না।

বেশ কয়েক দিন ধরেই শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা তাঁকে আইসিইউতে রাখার পরামর্শ দেন। এর আগে তিনি একাধিকবার লাইফ সাপোর্ট থেকে ফিরে এসেছিলেন।

অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত নাট্যকার, নির্দেশক, অভিনেতা ও ভাষাসৈনিক। মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন তিনি। কাজ করেছেন স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রে। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। এক অঙ্কের নাটক লেখায় বিশেষ পারদর্শিতার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। ১৯৯৭ সালে নাট্যকার হিসেবে একুশে পদকে ভূষিত হন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি কলেজে ৩২ বছর বাংলা ভাষা সাহিত্য এবং বাংলা ও ইউরোপীয় নাট্য বিষয়ে শিক্ষকতা করেন। তিনি ১৯৭৬-৭৮ সাল পর্যন্ত জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রণয়নে একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭৭-৮০ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক ছিলেন।

মমতাজউদদীন তার নাটকের মধ্য দিয়ে দেশ, দেশের মানুষ ও বাঙালির অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলেছেন। চলতি বছর ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদের ৮৫তম জন্মদিন উদযাপন করা হয়েছে, বাংলা একাডেমিতে। সেখানে আসাদুজ্জামান নূর বলেছেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে “উনি বলতেন, একটা মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়েছে, আরেকটা মুক্তিযুদ্ধ শুরু হল। এই মুক্তিযুদ্ধ অসাম্প্রদায়িকতা, যুদ্ধাপরাধ, অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে, বাঙালি সংস্কৃতির পক্ষে। সেই লড়ইয়ের শুরু থেকে অধ্যাপক মমতাজউদদীন স্যার আমাদের চেতনার বাতিঘর হয়ে আছেন।”

এবার বাংলা একাডেমিতে তাঁর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ভাষা সৈনিক কামাল লোহানী বলেন, “২৬ মার্চ কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে জিয়াউর রহমানের কণ্ঠে যে স্বাধীনতার ঘোষণা এসেছিল সেটার বাংলা অনুবাদ করে দিয়েছিলেন অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ। স্বৈরাচারী এরশাদের সময়ে রওশন এরশাদের সামনেই স্বৈরাচারবিরোধী নাটকের মধ্য দিয়ে তিনি প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।”

Print Friendly, PDF & Email