বাঙালিনিউজ
স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারে রয়েছে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। তাই গবেষকরা সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রতীকী ছবি

বাঙালিনিউজ
বিজ্ঞান-প্রযুক্তিডেস্ক

এক গবেষণা রিপোর্টে বলা হয়েছে, দৈনিক পাঁচ ঘণ্টার বেশি স্মার্টফোন ব্যবহারে ওজন বৃদ্ধি, হৃদরোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে। গবেষকরা আরও বলছেন, অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহার করলে শারীরিক কার্যকলাপ ও কর্মক্ষমতা কমে যায়। কলম্বিয়ার সিমন বলিভার বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮ সালের জুন মাস থেকে ডিসেম্বর মাসে ছাত্র ছাত্রীদের উপরে এই গবেষণা চালানো হয়।

অতিরিক্ত সময় মোবাইল ফোন ব্যবহারে বিভিন্ন স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্ভাবনার কথা বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গবেষকরা। গবেষণার প্রধান লেখক মিরারি মান্তিলা মোরন বলেন, ‘মোবাইল ফোনের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ফিচার থাকা স্বত্বেও অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে এর ক্ষতিকর দিকগুলোও মানুষকে জানতে হবে।’

গবেষণায় দেখা যায়, দিনে পাঁচ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ধরে স্মার্টফোন ব্যবহারের ফলে ৪৩ শতাংশ মানুষের মধ্যে ওজন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চিনিযুক্ত পানীয়, ফাস্ট ফুড, মিষ্টি, বারবার নাশতা খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। এ ছাড়া তাঁদের শারীরিক সক্রিয়তা অনেক কমে যায়। গবেষকেরা বলছেন, যাঁদের ওজন বেশি থাকে, তাঁদের ২৬ শতাংশ এবং আগে মেদযুক্ত ছিল—এমন ব্যক্তিদের ৪ দশমিক ৩ শতাংশ পাঁচ ঘণ্টার বেশি স্মার্টফোন যুক্ত থাকেন।

গবেষকেরা বলছেন, অতিরিক্ত সময় মোবাইল ফোনের ব্যবহারে তরুণদের মধ্যে যে শারীরিক সক্রিয়তা কমে, তাতে অকালমৃত্যু, ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ ও নানা ধরনের ক্যানসার হতে পারে। সমীক্ষায় অংশগ্রহণ করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা যায়, তারা ফাস্ট ফুড আর মিষ্টি জাতীয় খাবার খায় এবং কায়িক শ্রমের পরিমাণ কমে গেছে। এর ফলে অকালমৃত্যু, ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ নানা ধরনের ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সুস্থ থাকতে ফোনের ব্যবহার কমিয়ে আরও বেশি ব্যায়াম ও শারীরিক সক্রিয়তা বাড়ানোর নানা কাজে যুক্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভারতে দিল্লির অ্যাপোলো হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট আঁচাল বাঘাত বলেন, কয় ঘণ্টা স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন তা কোনো বিষয় নয়। কিন্তু দৈনিন্দ জীবনে কি পরিমাণ কায়িক শ্রম করছেন তাই মূখ্য বিষয়।’ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই ব্যায়াম ও কায়িক শ্রম করতে হবে।

সমীক্ষাটি কলম্বিয়ার সিমন বলিভার বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯ থেকে ২০ বছর বয়সী এক হাজার ৬০ জন শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো হয়। গবেষণা রিপোর্টে গবেষকরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সব ছাত্রছাত্রী দিনে পাঁচ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন, তাদের মধ্যে ৪৩ শতাংশের মোটা হয়ে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। আর এর ফলে তাদের হৃদরোগের শঙ্কা বাড়ছে।

গবেষণা রিপোর্ট বলছে, স্মার্টফোনের সামনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করলে শারীরিক কার্যকলাপের সময় কমে যায়। এর ফলে অল্প বয়সে মৃত্যু ঘটতে পারে। এছাড়াও ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের শঙ্কা বাড়ে। এমন কি বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারও হতে পারে।

২০১৮ সালের জুন মাস থেকে ডিসেম্বর মাসে ছাত্র ছাত্রীদের উপরে এই গবেষণা চলে। রিপোর্টে বলা হয়, ৭০০ জন নারী আর ৩৬০ জন পুরুষের মধ্যে এই গবেষণা চালানো হয়েছে। মেয়েদের গড় বয়স ছিল ১৯ বছর, আর ছেলেদের ২০ বছর। এর মধ্যে ৩৬.১ শতাংশ ছেলের মোটা হওয়ার আশঙ্কা দেখা গেছে। আর ৪২.৬ শতাংশ ছেলের মধ্যে অতিরিক্ত মোটা হওয়ার শঙ্কা দেখা গেছে। মেয়েদের মধ্যে ৬৩.৯ শতাংশ মোটা ও ৫৭.৪ শতাংশ অতিরিক্ত মোটা হওয়ার সম্ভাবনা দেখা গেছে।

তাই তাঁদের পরামর্শ স্মার্টফোনকে কাজে লাগান। কিন্তু তাতে ৫ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় কাটাবেন না। তাতে সমস্যা বাড়বে। এই সচেতনতা এখন সব বয়সের মানুষের জন্যই জরুরি হয়ে উঠেছে। তথ্যসূত্র: আইএএনএস, গ্যাজেটস নাও।

Print Friendly, PDF & Email